পারদ একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Hg পারমাণবিক সংখ্যা ৮০। এটি একটি ভারী d-ব্লক মৌল এবং একমাত্র ধাতু যা আদর্শ তাপমাত্রা এবং চাপে তরল অবস্থায় থাকে। পারদ নানা কাজে ব্যবহার করা হয় -
- দাঁতের ফিলিংয়ের উপাদান হিসেবে।
- ক্লোরিন ও কষ্টিক সোডা উৎপাদনে।
- পরীক্ষাগারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে। যেমনঃ থার্মোমিটারে তাপ গ্রাহক হিসেবে, এক ধরনের বিশেষ টেলিস্কোপে তরল প্রতিফলক হিসেবে।
- পারদ বাষ্প বিভিন্ন বাতিতে ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ নিয়ন আলো, ফ্লুরোসেন্ট বাতি।
এর বাইরে পারদ ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও বিষাক্ত । এমনকি সাবান বা কস্মেটিক্সেও এর ব্যবহার সীমিত কিছু হলেও উন্নত বিশ্বে এর ব্যবহারই ত্বকের জন্য নিষিদ্ধ । [ https://en.wikipedia.org/wiki/Mercury_poisoning ]
The mercury in these types of products can be absorbed through your skin. Mercury can damage the brain, nervous system and kidneys. It may also damage the skin, cause rashes and blotchy spots, and give skin a grayish color.
The longer and more often products containing mercury are used, the greater the health risk. These products can be especially harmful to children.
https://www1.nyc.gov/site/doh/health/health-topics/mercury-in-soaps-and-creams.page
বিশ্ব স্বাস্থসংস্থাও এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বলেছে -
- Mercury is a naturally occurring element that is found in air, water and soil.
- Exposure to mercury – even small amounts – may cause serious health problems, and is a threat to the development of the child in utero and early in life.
- Mercury may have toxic effects on the nervous, digestive and immune systems, and on lungs, kidneys, skin and eyes.
- Mercury is considered by WHO as one of the top ten chemicals or groups of chemicals of major public health concern.
- People are mainly exposed to methylmercury, an organic compound, when they eat fish and shellfish that contain the compound.
- Methylmercury is very different to ethylmercury. Ethylmercury is used as a preservative in some vaccines and does not pose a health risk.
https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/mercury-and-health
মজার বিষয় এই পারদ ও পারসংহিতার নাম নিয়ে পৌরাণিকদের নব্য আবিষ্কার রসালিঙ্গ । যদিও পারদসংহিতাতে এর নাম রস-লিঙ্গ , রসা নয় ।
অর্থাৎ এই মূর্খরা জীবনে পারসংহিতা পড়েই নাই কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সাথে মিথ্যা বলে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে । অবশ্য এই লেখা প্রকাশের পর তারা বানান পালটে নেবে তা নিশ্চিত । চোরের অশেষ গুণ ।
পারদ সংহিতা লিখেছে শ্রী বাবু নিরঞ্জনপ্রসাদ । পেশায় উকিল এই ব্যক্তি তথাকথিত নানা রসায়ন উদ্ধার করার জন্য নানা জায়গা টুকে এই বই লিখেন । অর্থাৎ এই বই এমনিতেই ভিত্তিহীন । তার মধ্যে এই ব্যক্তি ওকালতি ছেড়ে স্বর্ণ আর অভ্র জারণ করতে করতেই মারা গিয়েছেন । অর্থাৎ যিনি লেখক তিনি নিজেই সম্পূর্ণ প্রসেস করেননি বরং নিজেই আস্তে আস্তে বিষয়ক্রিয়ায় মারা গিয়েছেন । তাঁর মারা যাওয়ার পর মাত্র ৫০ কপি এই বই প্রকাশিত হয় কেননা এর কোন প্রামাণিক ভিত্তি ছিল না ।
পারদের জন্মটা একটু জানি এবার আমরা ।
পারদ সংহিতা ১।৮-১৪ = তারকাসুর বধের নিমিত্তে মহেদব ও পার্বতীর সম্ভোগ থামানোর জন্য কবুতর রূপে অগ্নিকে পাঠানো হয় । অগ্নিকে দেখে মহাদেব লজ্জা পান ও সম্ভোগাবস্থায় পতির বীর্যকে অগ্নির মুখে দিয়ে দেন৷ সেই বীর্যকে অগ্নি ৫ কুয়ায় রাখলে যখন তা পৃথিবীতে পতিত হল তখন পারচ পাঁচ প্রকার হয়ে গেলো ।
পারদ সংহিতা ১।৪০ = সাদা, লাল, হলুদ ও কালো এই চার প্রকার পারদ যথাক্রমে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্রের ।
পারদ সংহিতা ১।৫৩ = পারদ দর্শন করলেই ব্রহ্মহত্যা ও স্পর্শ করলে গোহত্যার পাপ থেকে মুক্তি ।
পারদ সংহিতা ১।৬০ = পারদ না খেলে মুক্তি হবে না, শরীরও রক্ষা হবে না ।
পারদ সংহিতা ১।৬১ = পারদ খেলে অল্প সময়েই অজর ও অমর হওয়া যায়, মন শান্ত হয় ।
মজার বিষয় এগুলো যে বানোয়াট তারাও জানে । এজন্য দ্বিতীয় অধ্যায়েই তারা পারদে দোষ আছে এটাও বর্ণনা করে বলেছে সংস্কার না করে খেলে ক্ষতি হবে ।
পারদ সংহিতা ২।৪৮
পারদসংহিতা ৩।১ = ১৮ রসশালা বানিয়ে পারদকে শুদ্ধ করতে হবে ।
পৌরাণিকরা এখানে একটা কথা বলে পারদ ও গন্ধককে যথাক্রমে পুরুষ ও প্রকৃতি ধরে মিক্স করে রসালিঙ্গ প্রস্তুত করা হতো । সমর্থনে তারা গীতা ১৪।৩ বা সাংখ্যকারিকা প্রভৃতি অপযুক্তি প্রদর্শন করে ।
মজার ব্যাপার হলো যদি পুরুষ ও প্রকৃতিই হয় তাহলে তারা আবার নিজেরাই বলে পারদ পুরুষ ও গন্ধক প্রকৃতি কিন্তু গন্ধক+তামা=তুঁতে ব্যবহার করা হচ্ছে সলিডিফাইড এমালগাম । তাহলে এই যে তামা এটা আসলে কী তার কোন শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এরা দেয়নি ? কেননা তারা এসব ইউটিউব দেখে দেখে বানিয়েছে প্রকৃতপক্ষে পারদসংহিতা এরা জীবনে পড়েও দেখেনি । মানুষকে বোকা বানানোর কতো কৌশল ! একই জায়গায় ২ মত প্রকৃতিকে নিয়ে !
পারদসংহিতা ৩।১-১৭ তে পারদ শুদ্ধির জন্য রসশালা বানানোর কথা আছে ও ৩। ১৮-২৭ কেবল পাত্রের বর্ণনা । কোন না আছে গন্ধকের কথা না আছে তুঁতে না আছে সলিডিফাই করে এমালগাম করার মত পারিভাষিক কোন শব্দ । অর্থাৎ পৌরাণিকদের এই এমালগাম বানানোর কথায়া সম্পূর্ণই ধাপ্পাবাজি ।
এমালগাম সম্ভবতঃ তারা ডেন্টিস্টদের নিকট শুনেছে সেটাই এখানে কপি করেছে । যদিও এখন এমালগামলে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য । পড়ুন এখানে - https://en.wikipedia.org/wiki/Amalgam_(dentistry)#History_of_use
পারদসংহিta ৩।২৮-২৯ = পৌরাণিকদের সমস্ত তথাকথিত এমালগাম বা সলিডিফাইয়ের উপহাস করে এখানে রসাংকুশা বিদ্যা দ্বারা শালার চারিদিকে পারদের কাজের উপাদান ছিটিয়ে [ মোটেও পারদে যুক্ত করে না , শালা বা ঘরের বাইরে ছিটিয়ে ] পবিত্র করে রসলিংগ পূজা করে পারদকে গ্রহণ করাদ কথা বলা হয়েছে ।
হায়রে মিথ্যাবাদী পৌরাণিক । এই তোমার পারদসংহিতার বিজ্ঞান ? কোথায় তোমার শুদ্ধি , তুঁতে , এমালগাম ? এখানে তো পূজা করেই পারদ শুদ্ধ হবে । এর বিষক্রিয়া এভাবে চলে যাবে । মূর্খ পৌরাণিকদের বিজ্ঞান আসলেই অজ্ঞান ।
পারদসংহিতা ৩।৩০-৩৬ = স্বর্ণ ও পারদকে মিশ্রিত করে লিঙ্গ বানাবে ইত্যাদি ।
অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা যা পাচ্ছি -
১। পারদ সংহিতার পারদের উৎপত্তি শিব বীর্য থেকে ।
২। পারদ শুদ্ধি করণের জন্য মন্ত্র জপ করে ছিঁটে দেওয়ার বিধি আছে অন্য কোন বৈজ্ঞানিক বিধি নেই ।
৩। পারদসংহিতায় এমালগাম, গন্ধক বা সলিডিফাই কোন কিছুই নেই ।
অতএব পৌরাণিকদের মিথ্যাচার আরেকবার সমূলে খণ্ডিত হলো ।

0 মন্তব্য(গুলি)