যজ্ঞাধিকার ও মীমাংসা দর্শন
~ ড. জগমোহন
[ভারতীয়
সংস্কৃতি হলো যজ্ঞাদি ক্রিয়ার সংস্কৃতি। যেখানে যজ্ঞের এক দীর্ঘ পরম্পরা
পরিলক্ষিত হয়। শুধুমাত্র যজ্ঞের সাথে সম্পর্কিত বিপুল সাহিত্যই নয় বরং
ইতিহাসে অশ্বমেধ এবং রাজসূয় প্রভৃতি যজ্ঞকর্তাদের বর্ণনাও উপলব্ধ হয়।
যজ্ঞের প্রচার এবং প্রসারের কারণে এটির ব্যাপকতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে,
এই যজ্ঞ কেবল ইহলোকের ঐশ্বর্য লাভের জন্যই ছিল না, এমনকি অসীম আনন্দ বা
মোক্ষ লাভেরও মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল। তারা আমাদের জীবনের সর্বস্ব হয়ে
উঠেছিল।
এটি
একটি সর্বজনস্বীকৃত তথ্য যে, বিবিধ বিচারকমণ্ডলী বা জনসাধারণের সংস্পর্শে
আসা একটি বিকাশমান ধারা কখনও একক স্বরূপে থাকতে পারে না। ধীরে ধীরে,
জ্ঞানের বিকাশের সাথে সাথে, এই যজ্ঞীয় কর্মকাণ্ড বিবিধ শ্রেণীর মানুষের
মাঝে এতটা অধিকমাত্রাতে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, যজ্ঞ-সম্বন্ধীয় বিষয়গুলো নিয়ে
অনেক বাদ-বিবাদ শুরু হয়ে উঠেছিল এবং সেগুলো নিয়ে বিশেষভাবে
বিচার-বিশ্লেষণ করাটা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
এই
বিকশিত যজ্ঞ পরম্পরা এবং পদ্ধতিসকল বিশ্লেষণ করে তাদের একটি শাস্ত্রীয় এবং
স্থিতিশীল রূপ প্রদান করার কাজটি মীমাংসা দর্শন সম্পাদন করে।
ড. জগমোহন - সহকারী অধ্যাপক, হিন্দু মহাবিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি]
ও৩ম্
যজ্ঞের
অধিকার নিয়েও আচার্যদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয়ে
বিদ্বানগণ বিস্তর লেখালেখি করেছেন। অতএব, আমার এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু
কোনো নতুন কিছু নয়, তবে এর নবীনতা এবং মৌলিকতা এই যে, এতে যজ্ঞের অধিকার
সম্পর্কে মীমাংসা দর্শনের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করার প্রয়াস করা হয়েছে।
স্মৃতি
ও ধর্মগ্রন্থের আলোড়ন-বিলোড়ন থেকে যজ্ঞের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্টরূপে বলা
যায় যে, যজ্ঞের অধিকার বিষয়তে অনেক অসঙ্গতি সেসময় এসে পড়েছিল। যেখানে
মনুস্মৃতিতে [৩.৫৬] বলা হচ্ছে, "যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ"
, অপরদিকে "স্ত্রীশূদ্রো নাধীয়তাম" এ জাতীয় বচন সমাজে প্রচলিত হচ্ছিল। এমন
সময়ে সমাজের মার্গ প্রশস্ত করার জন্য, মহর্ষি জৈমিনি যজ্ঞাধিকারের
মীমাংসা তার দর্শনে উপস্থাপন করে বলেন যে- "ফলার্থত্বাৎ কর্মণঃ শাস্ত্রং
সর্বাধিকারং স্যাৎ" [মীমাংসা দর্শন ৬.১.৪] অর্থাৎ যজ্ঞের দ্বারা শ্রেষ্ঠ ফল
লাভ হয়, অতএব যজ্ঞ করার অধিকার সকলের আছে। এখানে সকলের দ্বারা নারী-পুরুষ,
শূদ্র সকলেরই গ্রহণ হয়। এটিই ঋষি জৈমিনির মূখ্য স্থাপনা কিন্তু স্থাপনার
মাধ্যমেই কোনো তথ্য সিদ্ধ হয়ে যায় না। সুতরাং, প্রথমে তিনি স্ত্রীর অধিকার
বিষয়ে নিজের পক্ষকে পুষ্ট করার নিমিত্তে বিরোধী পক্ষের তর্কগুলোকে উপস্থাপন
পূর্বক তার মীমাংসা করেন।
জৈমিনি
প্রথমে যুক্তি দেন যে, বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার সম্পর্কিত
শ্রুতিতে যেহেতু নারীদের যজ্ঞ করার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি,
তাই নারীদের যজ্ঞ করার অধিকার রয়েছে। [কর্তুর্বা শ্রুতিসংযোগাৎ বিধিঃ
কাৎর্স্ন্যেন গম্যতে। মীমাংসা দর্শন ৬.১.৫] স্বার্থী এবং নারী-বিদ্বেষী
তথাকথিত ধর্মীয় আচার্যগণ যুক্তি দেন যে, যেখানেই শাস্ত্রে বৈদিক
আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকারের কথা বলা হয়েছে, সেখানে সর্বত্রই পুংলিঙ্গের
নির্দেশ রয়েছে। অতএব, শ্রুতি-বাক্যে পুংলিঙ্গের নির্দেশ পাওয়া যাওয়ায়
স্ত্রীদের যজ্ঞাধিকার নেই। [লিঙ্গবিশেষনির্দেশাত্তু পুংযুক্তমৈতিকায়নঃ।
মীমাংসা দর্শন ৬.১.৬]
এই
তর্কটির মীমাংসা করার জন্য জৈমিনি মুনি বলেন যে, শ্রুতি বাক্যে পুংলিঙ্গের
নির্দেশ জাতির বোধক। কারণ জাতিতে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রী-এর মতো কোনো বিশেষতা
পাওয়া যায় না সুতরাং জাতিরূপে অর্থের তুল্য হওয়াতে স্ত্রীদেরও যজ্ঞ করার
অধিকার রয়েছে। [জাতিং তু বাদরায়ণোঽবিশেষাৎ, তস্মাৎ স্ত্রয়পি প্রতীয়তে
জাত্যর্থস্যাবিশিষ্টত্বাৎ। মীমাংসা দর্শন ৬.১.৮]
নারী
বিরোধী মত তর্ক দেন যে, বৈদিক কর্ম করার জন্য ধনের আবশ্যকতা হয় আর নারীদের
কাছে ধন বা অর্থ থাকে না। অতএব তাদের যজ্ঞাধিকার সম্ভব নয় কারণ ধন বা
অর্থের পতির অধিকার থাকে। সুতরাং তাদের উপার্জিত ধনও পতির-ই হয়ে যায়।
[দ্রব্যবত্ত্বাৎ তু পুংসাং স্যাৎ দ্রব্যসংযুক্তং ক্রয়বিক্রয়াভ্যাম্,
অদ্রব্যত্বং স্ত্রীণাং দ্রব্যৈঃ সমানযোগিত্বাৎ। মীমাংসা দর্শন ৬.১.১০]
এই
তর্কটির মীমাংসা করার লক্ষ্যে জৈমিনি মুনি বলেন যে, ধর্মরূপী ফল এবং বৈদিক
কর্ম করার যে উৎসাহ পুরুষের মাঝে দেখা যায় তা স্ত্রীর মাঝেও দেখা যায়।
[ফলোৎসাহাঽবিশেষাতু। মীমাংসা দর্শন ৬.১.১৩]
সুতরাং
যজ্ঞাদি কর্মেও স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। ভগবান জৈমিনি এস্থলে মানব
মূল্যাঙ্কনের উচ্চ দৃষ্টিকোণকে স্বীয় বক্তব্যে তুলে ধরেছেন, যেখানে সকল
প্রকারের বর্গ, জাতি ও সম্প্রদায়ের উর্ধ্বে উঠে সমাজকে মানব মূল্যাঙ্কনের
দিশা নিশ্চিত করা উচিত। অর্থাৎ যেরূপ পুরুষের মন, সেরূপ নারীও মন।
সংবেদনশীলতার স্তরে নারী-পুরুষ উভয়ই সমান। উভয়ের সংবেদনা একই রকম। যজ্ঞের
অধিকার নিয়ে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষের ক্রমবর্ধমান
ব্যবধান দূর করার জন্য একটি উদার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। একই সাথে, নারীর
গুরুত্ব রক্ষা করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে বিবাহে, স্বামী এবং
স্ত্রী উভয়কেই ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ এই চারটি ফল সঞ্চয় করার নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে। [অর্থেন চ সংবেতত্বাৎ। মীমাংসা দর্শন ৬.১.১৪]
ধর্মাদি
ফলের সংযোগের কারণে, নারীদেরও যজ্ঞ করার অধিকার রয়েছে। এতে আরও বলা
হয়েছে যে শাস্ত্র দম্পতিদের জন্য একই ধর্মের কথা বলা হয়েছে। অতএব, মহিলারা
তাদের স্বামীর সম্পত্তি থেকে যজ্ঞ এবং অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান করতে পারেন,
অর্থাৎ তাদের স্বামীর সম্পত্তির উপর অধিকার রয়েছে। [স্ববত্তামপি দর্শয়তি।
মীমাংসা দর্শন ৬.১.১৬]
যেহেতু
পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্য একই ধর্ম নির্দেশ করে এমন বিবৃতি রয়েছে, তাই
তাদের জন্য একই কর্তব্য পালনের বিধান রয়েছে। [স্ববতোস্তু বচনাদৈককর্যং
স্যাৎ। মীমাংসা দর্শন ৬.১.১৭]
শাস্ত্রে স্ত্রী-পুরুষ উভয়কে একসাথে যজ্ঞ করার এবং এর মাধ্যমে ফল-চতুষ্টয় লাভ করার কথন রয়েছে।
নারীবিরোধীরা
যুক্তি দেন যে, বেদ অধ্যয়নে নারীদের যোগ্যতা পুরুষদের সমান নয়। [তস্যা
যাবদুক্তমাশীর্ব্রহ্মচর্যমতুল্যত্বাৎ। মীমাংসা দর্শন ৬.১.২৪]
এই
যুক্তির সমাধান দিতে গিয়ে জৈমিনি তার হৃদয়ের উদারতাকে সম্পূর্ণরূপে মেলে
ধরেছেন। তিনি বলেন যে, বেদ অধ্যয়নে স্ত্রীদের পুরুষদের সমান যোগ্যতা না
থাকলেও স্ত্রীর অগ্ন্যাধানের বিধান শাস্ত্রবিহিত। এইভাবে, যজ্ঞে স্ত্রীদের
অধিকার প্রতিষ্ঠা করার পর, তিনি শূদ্রের জন্য যজ্ঞের অধিকারকে প্রতিপাদন
করার নিমিত্তে বলেন - যে চার বর্ণেরই বৈদিক কর্মে অধিকার রয়েছে, কারণ
ব্রাহ্মণাদি বর্ণের মধ্যে কোনও বিশেষতা নেই।[ চাতুর্বণ্যমবিশেষাৎ। মীমাংসা
দর্শন ৬.১.২৫ ]
কিন্তু
প্রতিপক্ষী ধর্ম-আচার্যরা বলেন যে - যজ্ঞ করার অধিকার কেবল তিনটি বর্ণেরই
রয়েছে। এসকল বৈদিক কর্মের সাথে শূদ্রের কোনও সম্বন্ধ নেই কেননা ব্রাহ্মণাদি
বর্ণের অধিকার ব্যাখ্যা করে এমন শ্রুতি এই কথাই বলে।
[নির্দেশাদ্বা ত্রয়াণাং স্যাদগ্ন্যাধেয়ে হ্যসম্বন্ধঃ ক্রতুষু ব্রাহ্মণশ্রুতিরিত্যাত্রেয়ঃ। মীমাংসা দর্শন ৬.১.২৬ ]
জৈমিনি
এই বিষয়ে মীমাংসা করার সময় বলেন যে, নৈমিত্তিক সামর্থ্যের দ্বারাই
অধিকার উৎপন্ন হয়। এখানে নৈমিত্তিক শব্দটি স্বাভাবিকের বিপরীত অর্থ
প্রদানকারী, যার অর্থ হল জন্মের ভিত্তিতে বৈদিক কর্মের উপর ব্যক্তির অধিকার
প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত করা যায় না। গুণ এবং কর্মই অধিকারের আধার হতে
পারে। [নিমিতার্থেন বাদরিঃ, তস্মাৎ সর্বাধিকারঃ স্যাৎ। মীমাংসা দর্শন
৬.১.২৭]
নিজের
এই পক্ষকে পুষ্ট করার জন্য, তিনি বলেন যে, শাস্ত্রীয় বচন পাওয়া যাওয়াতেও
যজ্ঞ আদি কর্মে চারবর্ণের অধিকার রয়েছে। [ অপি বাঽন্যার্থদর্শনাৎ যথাশ্রুতি
প্রতীয়তে। মীমাংসা দর্শন ৬.১.৩৩ ]
প্রতিপক্ষ
বলছেন যে, যজ্ঞ করার অধিকারের কথা শূদ্রের ক্ষেত্রে সরাসরি পাওয়া যায়
না, তাই তার অনুপস্থিতিতে যজ্ঞের অধিকার কেবল ব্রাহ্মণাদি বর্ণেরই রয়েছে।
এই
যুক্তির সমালোচনা করে জৈমিনি বলেন, "শুধুমাত্র উপনয়ন বিধিতে শূদ্রের জন্য
কোনো ব্রত না পাওয়ার কারণে ব্রহ্মবিদ্যাতে কী শূদ্রের অধিকার নেই? এটা ঠিক
নয়, কারণ শূদ্রদেরও ইচ্ছা থাকে। [ন কাম্যত্বাৎ। মীমাংসা দর্শন ৬.১.৩১ ]
তারাও ব্রহ্মবিদ্যা অর্জন করতে আগ্রহী।"
যেমন তাদেরকে ব্রহ্মবিদ্যার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, তেমনি তাদেরকে যজ্ঞ করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা যাবে না।
প্রতিপক্ষ
বলছেন যে, বিদ্যা গ্রহণের জন্য শূদ্রের উপনয়ন সংস্কার করা হয় না, তাই
যেমন শূদ্রের উপনয়ন করার অধিকার নেই, তেমনি তার যজ্ঞকর্ম করার অধিকারও নেই।
এই
তর্কের মীমাংসা করতে গিয়ে জৈমিনি মুনি বলেন যে, সংস্কার বিষয়ে বিশেষত্বের
কারণ হলো ব্রাহ্মণাদি বর্ণের প্রধানতা। অর্থাৎ, তিন বর্ণের প্রাধান্যের
কারণে একজন শূদ্রের উপনয়ন সংস্কার করা হয় না। শূদ্রতে বিদ্যা অর্জনের
সামর্থ্য না থাকার কারণে তার উপনয়ন কর্মে অধিকার নেই কিন্তু যদি সে বিদ্বান
হয়ে উঠে, তাহলে সে এর অধিকারী। [ সংস্কারে চ তৎপ্রধানাত্বাৎ। মীমাংসা
দর্শন ৬.১.৩২ ] এই ধরণের অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যায়। সুতরাং, নারী এবং শূদ্র
উভয়েরই যজ্ঞ করার অধিকার প্রতিষ্ঠার পর, তিনি যজ্ঞ করার অধিকার সম্পর্কিত
অন্যান্য বিষয়গুলোও আলোচনা করেন।
সম্পদের
মাধ্যমে কর্মের সিদ্ধি লাভ করা হয়, তাই কি কেবল ধনী ব্যক্তিদেরই যজ্ঞ
করার অধিকার আছে? দারিদ্র্য ক্ষণস্থায়ী। [অনিত্যত্বাৎ তু নৈব স্যাদ্
অর্থাদ্ হি দ্রব্যসংযোগঃ।। মীমাংসা দর্শন ৬.১.৪য়া]
সুযোগ
পেলে একজন নির্ধন ব্যক্তিও ধনবান হতে পারেন। অতএব, সকলেরই যজ্ঞ করার
অধিকার রয়েছে। এটা সত্য যে অর্থ ছাড়া যজ্ঞ এবং অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান
অসম্ভব। তবে, প্রায়শই দেখা যায় যে একজন ধনী ব্যক্তিও সহায়তা প্রদান
করেন। এমনকি একজন দরিদ্র ব্যক্তিও, তার নিজস্ব প্রচেষ্টা এবং অন্যদের
সাহায্যে, এই ধরনের মহৎ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন। অতএব, দারিদ্র্যের
ভিত্তিতে একজন ব্যক্তিকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করাটা কোনোভাবেই উচিত হতে
পারে না।
একজন
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কি যজ্ঞ করার অধিকার আছে? জৈমিনি বলেন, "ধর্ম আত্মার
সাথে সম্পর্কিত, যা অঙ্গহীনের মধ্যেও বিদ্যমান।" [অঙ্গহীনশ্চ তদ্ধর্মা।
মীমাংসা দর্শন ৬.১.৪১] অতএব, প্রতিবন্ধীদেরও যজ্ঞ করার অধিকার রয়েছে।
প্রতিবন্ধীদের প্রতি কত উদার এবং বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়েছে।
এভাবে,
আমরা দেখতে পাই যে হাজার হাজার বছর আগে মহর্ষি জৈমিনি যে সমস্যাগুলি
সমাধান করেছিলেন, তা যুক্তিসঙ্গত এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে উপস্থাপন
করা হয়েছে। ঋষিদের এই একই বার্তা মহর্ষি স্বামী দয়ানন্দ এবং তাঁর অনুসারী
সহ অনেক মহাপুরুষ তাদের গ্রন্থ, ব্যাখ্যান এবং বক্তৃতার মাধ্যমে বারবার
প্রচার এবং প্রসার করেছেন। যখন আমরা আবারও সমাজে এই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি
হই, তখন আমাদের অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋষি দয়ানন্দের পংক্তিগুলি মনে পড়ে যায়:
"বর্তমান
কালের সম্প্রদায় এবং স্বার্থপর ব্রাহ্মণরা, যারা অন্যদের জ্ঞান এবং
আধ্যাত্মিকতার সাধনা থেকে বিচ্যুত করে, তাদের জালে আটকে রাখে, তাদের শরীর,
মন এবং সম্পদ ধ্বংস করে, এবং আশা করে যে ক্ষত্রিয় বর্ণের লোকেরা শিক্ষার
মাধ্যমে জ্ঞানী হয়ে আমাদের ভণ্ডামি থেকে মুক্তি পাবে এবং আমাদের প্রতারণা
আবিষ্কার করে আমাদের অপমান করবে।"
~ [সত্যার্থ প্রকাশ, তৃতীয় সমুল্লাস]
এই
মানসিকতার মানুষ এখনও সমাজের কোথাও না কোথাও বিদ্যমান। ঈশ্বর আমাদের সকলকে
আমাদের পরিবার এবং সমাজের মধ্যে ঋষিদের বার্তা প্রচার করার শক্তি দিন।
অনুবাদঃ বাঁধন চক্রবর্তী
ও৩ম্ তৎ সৎ

0 মন্তব্য(গুলি)