https://www.idblanter.com/search/label/Template
https://www.idblanter.com
BLANTERORBITv101

যজুর্বেদ ২১.৬০ - ষাঁড়ের সাথে 'ভোগ' ? মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায় ~ Anima| $ex প্রসঙ্গ

Wednesday, February 11, 2026


✅ যজুর্বেদ ২১.৬০ - ষাঁড়ের সাথে 'ভোগ'❓

⚠️ মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায় ~ Anima| $ex প্রসঙ্গ

 
🔰ভগবৎপাদ মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী স্মার্ত-পৌরাণিক কপোলকল্পিত অশ্লীল, বৈজ্ঞানিক, সৃষ্টিক্রম বিরুদ্ধ, পরমেশ্বরের মহত্ত্ব খাটো করে এবং সর্বোপরি সনাতন ধর্মে বেদবিরুদ্ধ আচার যেমন বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, অস্পৃশ্যতার বিরোধীতা করেছিলেন এটা ইতিহাসে সর্বজনবিদিত একটি বিষয়। তদানীন্তন প্রচলিত হিন্দু সম্প্রদায় তখন থেকে অদ্যাবধি সেই সিদ্ধান্তের বিরোধ করে আসছে। যেমন— আর্যরা সবাইকে বেদাধিকার দেয়, নারীর উপনয়ন-পৌরোহিত্যাধিকার দেয়, জন্মগত বর্ণ-জাতিভেদ মানে না, শুদ্ধির মাধ্যমে বিভ্রান্ত সনাতনী ও জন্মগতভাবে অন্য মতে থাকা বিধর্মীদের সনাতন ধর্মে ফিরিয়ে আনা ~ ইত্যাদি বিষয় মহর্ষি দয়ানন্দ এবং তার অনুসারীরা করে থাকেন; স্মার্ত-পৌরাণিক সম্প্রদায় চিরকাল যার বিরোধিতা করেছেন, সর্বক্ষণ লম্ফঝম্প করেন এগুলোর শাস্ত্রীয়তা প্রমাণ করার জন্য। পৌরাণিকরা মৌখিকভাবে শুদ্ধির মতো ২-১টি বিষয় সামান্য গ্রহণ করলেও বৃহত্তর সমাজে সেগুলো প্রয়োগ রাখতে পারেনি বরং নিজেদের 'মার্কেটিং'-এর অংশ হিসেবেই রেখেছে, সনাতন ধর্মের সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।
 
▪️এমতাবস্থায় যখন স্মার্ত-পৌরাণিক ধারার ব্যক্তিরা মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর উপরই অশ্লীলতা, জাতিভেদ ইত্যাদির অভিযোগ আনে তখন তা একই সাথে আশ্চর্যজনক ও উপহাসের বিষয়। যদি মহর্ষি দয়ানন্দ এগুলোর সমর্থকই হবেন তাহলে ইতিহাসে তিনি 'সংস্কারক' হিসেবে কেন পরিচিত হবেন আর কেনই বা তিনি এগুলোর জন্য কাজ করবেন? আর যদি মহর্ষি এগুলোর সমর্থক হতেন তাহলে বিরোধীরাই বা বিরোধ কেন করবে ? কারণ হিসেবে তো মহর্ষি তাদের পক্ষে। 
 
📛 মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের জ্বলন্ত একটি উদাহরণ নিয়ে আমরা আজ আলোচনা করব। অপপ্রচারকারীর মতে, “মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী যজুর্বেদ ২১.৬০ - এ ষাঁড়ের সাথে 'ভোগ'” করতে অর্থাৎ (Sex) বা যৌনসঙ্গম করতে বলেছেন। 
 
  • 🔰প্রথমত, এটা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস কাল্পনিক একটা ব্যাপার, যে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী তাঁর 'ঋগ্বেদাদিভাষ্যভূমিকা'-গ্রন্থের 'ভাষ্যকরণশঙ্কাসমাধানবিষয়ঃ'-এ মহীধরের অশ্বযৌনসমাগম, কাল্পনিক শ্রৌতবিনিয়োগ তথা ব্রাহ্মণগ্রন্থের মন্ত্রবিরুদ্ধ বিধানের বিরোধীতা করেছেন তিনিই নিজের বেদভাষ্যে 'ষাঁড়ের সাথে যৌনমিলন' করতে বলবেন। এতে মহর্ষি নিজেই 'বদতোব্যাঘাত' দোষে দুষ্ট হবেন।
  • দ্বিতীয়ত, যেহেতু মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বেদপ্রেমী আস্তিকদের কাছে ঋষি হলেও বেদবিরোধী নাস্তিকদের নিকট আপ্ত হিসেবে মান্য নন (না হওয়াই স্বাভাবিক) সেখানে তার 'বদতোব্যাঘাত' হতে পারে না এটা অনেকের পক্ষেই না মানা স্বাভাবিক। 
কিন্তু প্রশ্ন হলো, যারা কিনা এগুলোকে অশ্লীল বলছেন তাদের প্রামাণিক পরম্পরায় এতো এসব কাজ অনেক সুন্দর কাজ। তাদের ইতিহাস কী বলে? আসুন দেখি—
 
১. অশ্বমেধ যজ্ঞে রাজার স্ত্রী বলি দেওয়া ঘোড়ার শিশ্ন=লিঙ্গ নিজের যোনিতে প্রবেশ করিয়ে যৌনসমাগম করবে
উৎসক্থ্যোর্গৃদং ধেহীতি প্রজননেন প্রজননং সংধায়াম্বে অম্বাল্যম্বিক ইতি মহিষ্যশ্বং গর্হতে ।
আপস্তম্ব শ্রৌতসূত্র ২০।১৮।৪, বারাহ শ্রৌতসূত্র ৩।৪।৪।১৫
অর্থাৎ মহিষী স্বীয় প্রজনন অঙ্গে অশ্বের প্রজনন অঙ্গ গ্রহণ করবে। তথা, রাজার স্ত্রী ঘোড়ার লিঙ্গকে নিজের যোনিতে ঢোকাবে।
 
 
 
২. মহিষ্যুপস্থে শেফমাধত্ত আহমজানি গর্ভধমা ত্বমজাসি গর্ভধম্।
বৌধায়ন শ্রৌতসূত্র ১৫।২৯
অর্থাৎ , মহিষী স্বীয় উপস্থে অশ্বের শেফ [শিশ্ন] ধারণ করে গর্ভ কামনা করবে।
 
 
 
৩. সংজ্ঞপ্রায় মহিষীমুপনিপাতয়ন্তি। তাবধীবাসেন সংপ্রোর্ণুবতে। তৌ যজমানোঽভিমেথতি। উৎসক্থ্যোরব গুদং ধেহ্যর্বাঞ্চমঞ্জিমা ভর। যঃ স্ত্রীণাং জীবভোজনঃ।
শাঙ্খায়ন শ্রৌতসূত্র ১৬।৩।৩৩-৩৬
অর্থাৎ 'অভিমেথনমশ্লীলভাষণেন মর্মযুক্তঃ পরীহাসঃ....প্রজননং শিশ্নং আভরাভিমুখেনানয়োঃ ঊর্বাঃ ' এখানে অশ্লীলভাষণ করতে হবে... প্রজনন অঙ্গ তথা অশ্বের শিশ্ন এগিয়ে আনতে হবে। 
 
 
 
৪. অশ্বশিশ্নমুপস্থে কুরুতে বৃষা বাজীতি।
কাত্যায়ন শ্রৌতসূত্র ২০।৬।১৬
অর্থাৎ, যজমানের স্ত্রী ঘোড়ার লিঙ্গকে যোনীতে প্রবেশ করিয়ে 'বৃষা বাজী' ইত্যাদি [যজুর্বেদ ২৩।২০] মন্ত্র পাঠ করবেন।
 
 
🔲অধিকন্তু, পৌরাণিকদের 'ফ্যান্টাসি' আরো সীমাহীন। উদাহরণ, প্রচলিত মহাভারতে পাওয়া যায়,
স চ রাজন্মহাতেজা ঋষিপুত্রস্তপোধনঃ ।
ভার্যযা সহ তেজস্বী মৃগরূপেণ সঙ্গতঃ ॥
অহং হি কিন্দমো নাম তপসাপ্রতিমো মুনিঃ ।
ব্যপত্রপন্মনুষ্যাণাং মৃগ্যাং মৈথুনমাচরম্ ॥
মহাভারত ১.১১৭.৭,২৮ [KPS ১১৮, HSB ১১২.৭,২৮]
অর্থাৎ, কিন্দম নামের মুনি নিজে মৃগ অর্থাৎ হরিণের রূপ ধরে নিজের মৃগী = হরিণীরূপধারিণী স্ত্রীর সাথে মৈথুনমাচরম্ = মৈথুন (Sex) করছিলেন।
 
 
 
 
 
কামাতুরো হয়ো ভূত্বা তত্র রেমে তয়া সহ ॥
ভবিষ্যপুরাণ প্রতিসর্গপর্ব ৪.১৮.৩৮
অশ্বরূপেণ মার্তণ্ডস্তাং মুখেন সমাসদৎ ।
মৈথুনায় বিচেষ্টন্তো পরপুংসো বিশঙ্কয়া ॥
সা তং বিবস্বতঃ শুক্রং নাসাভ্যাং সমধারয়ৎ ।
দেবৌ তস্যামজায়েতামশ্বিনৌ ভিষজাং বরৌ ॥
ভবিষ্যপুরাণ ব্রাহ্মপর্ব ৭৯.৫৫-৫৬
অর্থাৎ, সূর্য কামাতুর হয়ে ঘোড়ার রূপ ধারণ করে স্ত্রী সংজ্ঞার সাথে রমণ (Sex) করতে গেল। সংজ্ঞা সূর্যকে পরপুরুষ ভাবছিল, ওদিকে সূর্য নিজের মুখ সংজ্ঞার মুখে সংযুক্ত করল। তারপর সংজ্ঞা সূর্যের বীর্য (তেজ বা যাই ধরুন, স্থানটি খুবই আগ্রহোদ্দীপক) নিজের নাকে ধারণ করলো যার থেকে অশ্বিনীকুমার নামে দুইজন সর্বোত্তম বৈদ্য উৎপন্ন হলো।
 
 
 
 
অধিকন্তু, যোগবল বা অলৌকিকতার নাম দিয়ে ফ্যান্টাসিই হোক কিংবা তির্যকযোনি মুনিদের জন্ম কোথা থেকে তা নিয়েও পৌরাণিকদের বৈচিত্র্য সীমাহীন-
শুক্যাঃ শুকঃ কণাদাখ্যস্তথোলূক্যাঃ সুতোঽভবৎ ।
মৃগীজোথর্ষশৃঙ্গোপি বশিষ্ঠো গণিকাত্মজঃ ।
মন্দপালো মুনিশ্রেষ্ঠো নাবিকাপত্যমুচ্যতে ।
মাণ্ডব্যো মুনিরাজস্তু মণ্ডূকীগর্ভসম্ভবঃ ।
ভবিষ্যপুরাণ ব্রাহ্মপর্ব ৪২.২২-২৪
অর্থাৎ, শুক শুকী থেকে, কণাদ পেঁচকী থেকে, শৃঙ্গী হরিণী থেকে, বশিষ্ঠ বেশ্যা থেকে, মন্দপালন কোয়েল থেকে, মাণ্ডব্য ব্যাঙ থেকে জন্ম গ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, বেশ্যা কোনো যোনিবিশেষ না। অতঃ পূর্বাপর সবই যে মানুষ না বরং পশু-পাখি তা স্পষ্ট। 
 
 
 
 
🔰যাই হোক, এবার যে মন্ত্র নিয়ে অপপ্রচার সেটি নিয়ে আলোচনা করি,  
সূ॒প॒স্থাঽঅ॒দ্য দে॒বো বন॒স্পতি॑রভবদ॒শ্বিভ্যাং॒ ছাগে॑ন॒ সর॑স্বত্যৈ মে॒ষেণেন্দ্রা॑য়ঽঋষ॒ভেণাক্ষঁ॒স্তান্ মে॑দ॒স্তঃ প্রতি॑ পচ॒তাগৃ॑ভীষ॒তাবী॑বৃধন্ত পুরো॒ডাশৈ॒রপু॑র॒শ্বিনা॒ সর॑স্ব॒তীন্দ্রঃ॑ সু॒ত্রামা॑ সুরাসো॒মান্॥
যজুর্বেদ ২১.৬০
 
▪️মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী 'ঋষভেণাক্ষঁস্তান্' = ভুঞ্জীরন্ = बैल से भोग करें - उपयोग लें = বৃষ দ্বারা ভোগ করবে – উপযোগ নেবে ~ লিখেছেন। যেখানে মহর্ষি নিজেই স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন 'উপযোগ নেবে' লিখেছে এখানে অশ্লীল ইঙ্গিত কীভাবে কোনো মানুষের যুক্তিতে আসে তা বোধগম্য নয়। 
 

যদি এমনও হতো মহর্ষি উপযোগের কথা বলেনই নাই তখন একটু হলেও বিবেচনার অবকাশ ছিল। মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ভাবার্থেও লিখেছেন,
যে মনুষ্যাশ্ছাগদিদুগ্ধাদিভিঃ প্রাণাঽপানরক্ষণায় স্নিগ্ধান্ পক্বান্ পদার্থান্ ভুক্ত্বোত্তমান্ রসান্ পীত্বা বর্ধন্তে তে সুসুখং লভন্তে।
= যে সব মানব, ছাগাদি পশুদের দুগ্ধাদি প্রাণ-অপানের রক্ষার জন্য স্নিগ্ধ ও পক্ব পদার্থ আহার করে উত্তম রস-পান করে বৃদ্ধি লাভ করে, তারাই উত্তম সুখ প্রাপ্ত হয়। 
 

আলোচ্য ভোগ, ভুঞ্জীরন্, ভুক্ত্বোত্তমান্ ইত্যাদি ভুজ্ ধাতু থেকেই উৎপন্ন। 
 
 

 
📍যদি এখন বলেন, 'ভুঞ্জীরন্' অর্থ ভোগই নেবেন তাতেও বা কী আসে যায়। পৌরাণিক পরম্পরার প্রিয় অমরকোষ বলা হয়েছে,
ভোগঃ সুখে স্ত্র্যাদিভৃতাবহেশ্চ ফণকায়য়োঃ
অমরকোষ ৩.৩.২৩
অর্থাৎ, ভোগ শব্দের অর্থ ~ ভোগ, সুখ, স্ত্রীভৃতি অর্থাৎ বেশ্যাকে মৈথুনের বিনিময়ে যে মূল্য দেওয়া হয় কর্মমূল্য, সাপের ফণা, সাপের শরীর। [বা পালন, ভোজন, কুটিল, হাতি ইত্যাদির কর্মমূল্য, ধন]
 

 
অতঃ পৌরাণিক মতেও স্বীকার করতে তারা বাধ্য যে ভোগ শব্দের অর্থ বহুমুখী। যদিও আমাদের প্রমাণ দেওয়ার আবশ্যকতা ছিল না, মহর্ষির স্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরার পরেও তাও বিপক্ষীদের মুখ-মর্দনের জন্য করতে হলো। 
 
🔹পাশাপাশি মহর্ষি দয়ানন্দের সরস্বতীর ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা পৌরাণিকদের পূজ্য ব্যাখ্যাকারদের ব্যাখ্যাও আসুন দেখে নেই,
 
⚠️ যজুর্বেদ ২১.৬০ উবট ভাষ্য: ...অক্ষংস্তান্ ভক্ষিতবন্তঃ অশ্বিপ্রভৃতয়ঃ তান্ ছাগাদীন্ কুত আরভ্যেত্যাহ মেদস্তঃ বপায়া আরভ্য...= অশ্বিনীদ্বয় ছাগ, সরস্বতী ভেড়া, ইন্দ্র ষাঁড় - এই দেবতারা এসব পশুর মেদ তথা চর্বি থেকে শেষ অঙ্গ অব্দি খেল। 
 

⚠️ যজুর্বেদ ২১.৬০ মহীধর ভাষ্য: অশ্ব্যাদয়ো মেদস্তঃ মেদো বপামারভ্য তান্ ছাগাদীন্ অক্ষন্ অভক্ষয়ন্ = অর্থ উবটের মতোই। 
 
 
 
⚠️ কাণ্ব শুক্লযজুর্বেদ ২৩.৬৩ সায়ণ ভাষ্য: তান্ ছাগাদীন্ পশূন্, অক্ষন্ অশ্বিপ্রভৃতয়ো দেবা অভক্ষয়ন্ গৃহে পক্তারঃ মেদস্তো বপামারভ্য হৃদয়াদ্যঙ্গানি, প্রতি পচত প্রতিপাকং কুরুত = অর্থ আগের মতোই। 
 

 
⚠️ যজুর্বেদ ২১.৬০ করপাত্র ভাষ্য: মহীধর ও উবট ভাষ্যের নকল। 
 
 
📛 যজুর্বেদ ২১.৬০ রামকৃষ্ণ মিশন অব কালচারাল ইনসস্টিটিউট অনুবাদ: আজ বনস্পতিদেবতা ছাগের দ্বারা অশ্বিনীযুগলের সেবাকার্য সুসম্পন্ন করেছেন, মেষের দ্বারা সরস্বতীর সেবা সম্পাদন করেছেন এবং ঋষভের দ্বারা ইন্দ্রের সেবাকার্য সুসম্পন্ন করেছেন। (বনস্পতি যে ছাগ, মেষ এবং ঋষভের দ্বারা ক্রমে অশ্বিদ্বয়, সরস্বতী এবং ইন্দ্রের সেবা সুসম্পন্ন করেছেন, তা কিরূপে জানা যায়? বলা হচ্ছে-) অশ্বিনীদ্বয় প্রভৃতি দেবগণ বপা থেকে শুরু করে ছাগ প্রভৃতি পশুসমূহকে ভক্ষণ করেছেন। সুপক্ব পশুসমূহের অঙ্গসমূহকেও ঐ দেবতাগণ ভক্ষণ করেছেন এবং তাঁরা পুরোডাশ ভক্ষণ করে বৃদ্ধি পেয়েছেন। অশ্বিদ্বয়, সরস্বতী এবং সুরক্ষক ইন্দ্র সুরা এবং সোম পান করেছেন অথবা সুরা এবং সোমকে রক্ষা করেছেন। অথবা সুরাময় সোম পান করেছেন বা সুরাময় সোমকে রক্ষা করেছেন।
 
 
 
উক্ত ভাষ্যানুযায়ীই অশ্বমেধ যজ্ঞে রাজার স্ত্রী মৃত অশ্বের লিঙ্গ ধরে নিজের যোনীতে ঢোকাবেন এবং যৌনসঙ্গম করবেন। এরপর ঋত্বিক ও কুমারী, রাজরক্ষিতা, বেশ্যা অশ্লীল হাস্যপরিহাস করবেন।
 
..আহমজানি গর্ভধমা ত্বমজাসি গর্ভধম্ ॥
তাঽউভৌ চতুরঃ পদঃ সম্প্রসারয়াব স্বর্গে লোকে প্রোর্ণুবাথাং বৃষা বাজী রেতোধা রেতো দধাতু ॥
উৎসক্থ্যাঽঅব গুদং ধেহি সমঞ্জিং চারয়া বৃষন্ । য স্ত্রীণাং জীবভোজনঃ ॥
যজুর্বেদ ২৩.১৯-২১
মহীধর-উবট ভাষ্যানুযায়ী অনুবাদ:
১৯.[মহিষী অশ্বের পার্শ্বে শায়তা হয়ে]হে অশ্ব! গর্ভধারক তোমার তেজ আমি আকর্ষণ করে আপন যোনিতে ধারণ করছি। তুমি সেই গর্ভধারক আপন তেজকে আকর্ষণ পূর্বক আমার যোনিতে নিষেক করো৷
২০. হে অশ্ব! আগত হও। আমি ও তুমি উভয়ে আপন চারটি পদ বিস্তৃত করব। হে অশ্ব ও মহিষী! তোমরা দুজনে এই স্বর্গীয় যজ্ঞভূমিতে নিজেদের আচ্ছাদিত করে নাও। (মহিষী কর্তৃক অশ্বের লিঙ্গটি ধরে আপন যোনিতে প্রবিষ্ট করণীয়) বীর্যবান্ অশ্ব, বীর্যকে ধারণশীল, আমাতে আপন বীর্য স্থাপন করুক৷
২১. (যজমান কর্তৃক অশ্বকে কহনীয়)–হে সেচক অশ্ব! উত্থিত হয়ে জঙ্ঘাশালিনী এই মহিষীর যোনিতে আপন লিঙ্গ রক্ষা করো–তাকে (লিঙ্গকে) অগ্র পশ্চাৎ চালিত করো। এই লিঙ্গই স্ত্রীগণের জীবন ও ভোজন স্বরূপ৷



 
🔲 প্রিয় পাঠক, অধিক ব্যাখ্যার আর প্রয়োজন রয়েছে কি? ছাগল, ভেড়া, ষাঁড় এসব পশুর চর্বি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ অঙ্গ চেটেপুটে খাওয়া, রাণীর যোনিতে মৃত ঘোড়ার লিঙ্গ ঢুকানো দেবতাদের উপাসকদের তথাকথিত দেবতারা সুরা পানও করে। এমন পশুভক্ষী, মদ্যপায়ী দেবতার পূজকরা মহর্ষি দয়ানন্দের শুদ্ধভাষ্যে নিজেদের অশুচি দৃষ্টির কারণে যে ত্রুটি দেখবে এটাই স্বাভাবিক। পরমেশ্বর আমাদের এসব চর্বি খাওয়া দেবতার ভক্তদের কুবুদ্ধির হাত থেকে রক্ষা করুন। 
 
ইত্যোম্

© বাংলাদেশ অগ্নিবীর