যজুর্বেদ ২১.৬০ - ষাঁড়ের সাথে 'ভোগ'
মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায় ~ Anima| $ex প্রসঙ্গ
প্রথমত, এটা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস কাল্পনিক একটা ব্যাপার, যে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী তাঁর 'ঋগ্বেদাদিভাষ্যভূমিকা'-গ্রন্থের 'ভাষ্যকরণশঙ্কাসমাধানবিষয়ঃ'-এ মহীধরের অশ্বযৌনসমাগম, কাল্পনিক শ্রৌতবিনিয়োগ তথা ব্রাহ্মণগ্রন্থের মন্ত্রবিরুদ্ধ বিধানের বিরোধীতা করেছেন তিনিই নিজের বেদভাষ্যে 'ষাঁড়ের সাথে যৌনমিলন' করতে বলবেন। এতে মহর্ষি নিজেই 'বদতোব্যাঘাত' দোষে দুষ্ট হবেন।- দ্বিতীয়ত, যেহেতু মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বেদপ্রেমী আস্তিকদের কাছে ঋষি হলেও বেদবিরোধী নাস্তিকদের নিকট আপ্ত হিসেবে মান্য নন (না হওয়াই স্বাভাবিক) সেখানে তার 'বদতোব্যাঘাত' হতে পারে না এটা অনেকের পক্ষেই না মানা স্বাভাবিক।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, যারা কিনা এগুলোকে অশ্লীল বলছেন তাদের প্রামাণিক পরম্পরায় এতো এসব কাজ অনেক সুন্দর কাজ। তাদের ইতিহাস কী বলে? আসুন দেখি—
১. অশ্বমেধ যজ্ঞে রাজার স্ত্রী বলি দেওয়া ঘোড়ার শিশ্ন=লিঙ্গ নিজের যোনিতে প্রবেশ করিয়ে যৌনসমাগম করবে
উৎসক্থ্যোর্গৃদং ধেহীতি প্রজননেন প্রজননং সংধায়াম্বে অম্বাল্যম্বিক ইতি মহিষ্যশ্বং গর্হতে ।
আপস্তম্ব শ্রৌতসূত্র ২০।১৮।৪, বারাহ শ্রৌতসূত্র ৩।৪।৪।১৫
অর্থাৎ মহিষী স্বীয় প্রজনন অঙ্গে অশ্বের প্রজনন অঙ্গ গ্রহণ করবে। তথা, রাজার স্ত্রী ঘোড়ার লিঙ্গকে নিজের যোনিতে ঢোকাবে।
২. মহিষ্যুপস্থে শেফমাধত্ত আহমজানি গর্ভধমা ত্বমজাসি গর্ভধম্।
বৌধায়ন শ্রৌতসূত্র ১৫।২৯
অর্থাৎ , মহিষী স্বীয় উপস্থে অশ্বের শেফ [শিশ্ন] ধারণ করে গর্ভ কামনা করবে।
৩. সংজ্ঞপ্রায় মহিষীমুপনিপাতয়ন্তি। তাবধীবাসেন সংপ্রোর্ণুবতে। তৌ যজমানোঽভিমেথতি। উৎসক্থ্যোরব গুদং ধেহ্যর্বাঞ্চমঞ্জিমা ভর। যঃ স্ত্রীণাং জীবভোজনঃ।
শাঙ্খায়ন শ্রৌতসূত্র ১৬।৩।৩৩-৩৬
অর্থাৎ 'অভিমেথনমশ্লীলভাষণেন মর্মযুক্তঃ পরীহাসঃ....প্রজননং শিশ্নং আভরাভিমুখেনানয়োঃ ঊর্বাঃ ' এখানে অশ্লীলভাষণ করতে হবে... প্রজনন অঙ্গ তথা অশ্বের শিশ্ন এগিয়ে আনতে হবে।
৪. অশ্বশিশ্নমুপস্থে কুরুতে বৃষা বাজীতি।
কাত্যায়ন শ্রৌতসূত্র ২০।৬।১৬
অর্থাৎ, যজমানের স্ত্রী ঘোড়ার লিঙ্গকে যোনীতে প্রবেশ করিয়ে 'বৃষা বাজী' ইত্যাদি [যজুর্বেদ ২৩।২০] মন্ত্র পাঠ করবেন।
স চ রাজন্মহাতেজা ঋষিপুত্রস্তপোধনঃ ।
ভার্যযা সহ তেজস্বী মৃগরূপেণ সঙ্গতঃ ॥
অহং হি কিন্দমো নাম তপসাপ্রতিমো মুনিঃ ।
ব্যপত্রপন্মনুষ্যাণাং মৃগ্যাং মৈথুনমাচরম্ ॥
মহাভারত ১.১১৭.৭,২৮ [KPS ১১৮, HSB ১১২.৭,২৮]
অর্থাৎ, কিন্দম নামের মুনি নিজে মৃগ অর্থাৎ হরিণের রূপ ধরে নিজের মৃগী = হরিণীরূপধারিণী স্ত্রীর সাথে মৈথুনমাচরম্ = মৈথুন (Sex) করছিলেন।
কামাতুরো হয়ো ভূত্বা তত্র রেমে তয়া সহ ॥
ভবিষ্যপুরাণ প্রতিসর্গপর্ব ৪.১৮.৩৮
অশ্বরূপেণ মার্তণ্ডস্তাং মুখেন সমাসদৎ ।
মৈথুনায় বিচেষ্টন্তো পরপুংসো বিশঙ্কয়া ॥
সা তং বিবস্বতঃ শুক্রং নাসাভ্যাং সমধারয়ৎ ।
দেবৌ তস্যামজায়েতামশ্বিনৌ ভিষজাং বরৌ ॥
ভবিষ্যপুরাণ ব্রাহ্মপর্ব ৭৯.৫৫-৫৬
অর্থাৎ, সূর্য কামাতুর হয়ে ঘোড়ার রূপ ধারণ করে স্ত্রী সংজ্ঞার সাথে রমণ (Sex) করতে গেল। সংজ্ঞা সূর্যকে পরপুরুষ ভাবছিল, ওদিকে সূর্য নিজের মুখ সংজ্ঞার মুখে সংযুক্ত করল। তারপর সংজ্ঞা সূর্যের বীর্য (তেজ বা যাই ধরুন, স্থানটি খুবই আগ্রহোদ্দীপক) নিজের নাকে ধারণ করলো যার থেকে অশ্বিনীকুমার নামে দুইজন সর্বোত্তম বৈদ্য উৎপন্ন হলো।
অধিকন্তু, যোগবল বা অলৌকিকতার নাম দিয়ে ফ্যান্টাসিই হোক কিংবা তির্যকযোনি মুনিদের জন্ম কোথা থেকে তা নিয়েও পৌরাণিকদের বৈচিত্র্য সীমাহীন-
শুক্যাঃ শুকঃ কণাদাখ্যস্তথোলূক্যাঃ সুতোঽভবৎ ।
মৃগীজোথর্ষশৃঙ্গোপি বশিষ্ঠো গণিকাত্মজঃ ।
মন্দপালো মুনিশ্রেষ্ঠো নাবিকাপত্যমুচ্যতে ।
মাণ্ডব্যো মুনিরাজস্তু মণ্ডূকীগর্ভসম্ভবঃ ।
ভবিষ্যপুরাণ ব্রাহ্মপর্ব ৪২.২২-২৪
অর্থাৎ, শুক শুকী থেকে, কণাদ পেঁচকী থেকে, শৃঙ্গী হরিণী থেকে, বশিষ্ঠ বেশ্যা থেকে, মন্দপালন কোয়েল থেকে, মাণ্ডব্য ব্যাঙ থেকে জন্ম গ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, বেশ্যা কোনো যোনিবিশেষ না। অতঃ পূর্বাপর সবই যে মানুষ না বরং পশু-পাখি তা স্পষ্ট।
সূ॒প॒স্থাঽঅ॒দ্য দে॒বো বন॒স্পতি॑রভবদ॒শ্বিভ্যাং॒ ছাগে॑ন॒ সর॑স্বত্যৈ মে॒ষেণেন্দ্রা॑য়ঽঋষ॒ভেণাক্ষঁ॒স্তান্ মে॑দ॒স্তঃ প্রতি॑ পচ॒তাগৃ॑ভীষ॒তাবী॑বৃধন্ত পুরো॒ডাশৈ॒রপু॑র॒শ্বিনা॒ সর॑স্ব॒তীন্দ্রঃ॑ সু॒ত্রামা॑ সুরাসো॒মান্॥
যজুর্বেদ ২১.৬০
যদি এমনও হতো মহর্ষি উপযোগের কথা বলেনই নাই তখন একটু হলেও বিবেচনার অবকাশ ছিল। মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ভাবার্থেও লিখেছেন,
যে মনুষ্যাশ্ছাগদিদুগ্ধাদিভিঃ প্রাণাঽপানরক্ষণায় স্নিগ্ধান্ পক্বান্ পদার্থান্ ভুক্ত্বোত্তমান্ রসান্ পীত্বা বর্ধন্তে তে সুসুখং লভন্তে।
= যে সব মানব, ছাগাদি পশুদের দুগ্ধাদি প্রাণ-অপানের রক্ষার জন্য স্নিগ্ধ ও পক্ব পদার্থ আহার করে উত্তম রস-পান করে বৃদ্ধি লাভ করে, তারাই উত্তম সুখ প্রাপ্ত হয়।
আলোচ্য ভোগ, ভুঞ্জীরন্, ভুক্ত্বোত্তমান্ ইত্যাদি ভুজ্ ধাতু থেকেই উৎপন্ন।
ভোগঃ সুখে স্ত্র্যাদিভৃতাবহেশ্চ ফণকায়য়োঃ
অমরকোষ ৩.৩.২৩
অর্থাৎ, ভোগ শব্দের অর্থ ~ ভোগ, সুখ, স্ত্রীভৃতি অর্থাৎ বেশ্যাকে মৈথুনের বিনিময়ে যে মূল্য দেওয়া হয় কর্মমূল্য, সাপের ফণা, সাপের শরীর। [বা পালন, ভোজন, কুটিল, হাতি ইত্যাদির কর্মমূল্য, ধন]
অতঃ পৌরাণিক মতেও স্বীকার করতে তারা বাধ্য যে ভোগ শব্দের অর্থ বহুমুখী। যদিও আমাদের প্রমাণ দেওয়ার আবশ্যকতা ছিল না, মহর্ষির স্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরার পরেও তাও বিপক্ষীদের মুখ-মর্দনের জন্য করতে হলো।
উক্ত ভাষ্যানুযায়ীই অশ্বমেধ যজ্ঞে রাজার স্ত্রী মৃত অশ্বের লিঙ্গ ধরে নিজের যোনীতে ঢোকাবেন এবং যৌনসঙ্গম করবেন। এরপর ঋত্বিক ও কুমারী, রাজরক্ষিতা, বেশ্যা অশ্লীল হাস্যপরিহাস করবেন।
..আহমজানি গর্ভধমা ত্বমজাসি গর্ভধম্ ॥
তাঽউভৌ চতুরঃ পদঃ সম্প্রসারয়াব স্বর্গে লোকে প্রোর্ণুবাথাং বৃষা বাজী রেতোধা রেতো দধাতু ॥
উৎসক্থ্যাঽঅব গুদং ধেহি সমঞ্জিং চারয়া বৃষন্ । য স্ত্রীণাং জীবভোজনঃ ॥
যজুর্বেদ ২৩.১৯-২১
মহীধর-উবট ভাষ্যানুযায়ী অনুবাদ:
১৯.[মহিষী অশ্বের পার্শ্বে শায়তা হয়ে]হে অশ্ব! গর্ভধারক তোমার তেজ আমি আকর্ষণ করে আপন যোনিতে ধারণ করছি। তুমি সেই গর্ভধারক আপন তেজকে আকর্ষণ পূর্বক আমার যোনিতে নিষেক করো৷
২০. হে অশ্ব! আগত হও। আমি ও তুমি উভয়ে আপন চারটি পদ বিস্তৃত করব। হে অশ্ব ও মহিষী! তোমরা দুজনে এই স্বর্গীয় যজ্ঞভূমিতে নিজেদের আচ্ছাদিত করে নাও। (মহিষী কর্তৃক অশ্বের লিঙ্গটি ধরে আপন যোনিতে প্রবিষ্ট করণীয়) বীর্যবান্ অশ্ব, বীর্যকে ধারণশীল, আমাতে আপন বীর্য স্থাপন করুক৷
২১. (যজমান কর্তৃক অশ্বকে কহনীয়)–হে সেচক অশ্ব! উত্থিত হয়ে জঙ্ঘাশালিনী এই মহিষীর যোনিতে আপন লিঙ্গ রক্ষা করো–তাকে (লিঙ্গকে) অগ্র পশ্চাৎ চালিত করো। এই লিঙ্গই স্ত্রীগণের জীবন ও ভোজন স্বরূপ৷
ইত্যোম্
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর








0 মন্তব্য(গুলি)