https://www.idblanter.com/search/label/Template
https://www.idblanter.com
BLANTERORBITv101

যজুর্বেদ ২৫.১ - অশ্লীলতা ? মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায়

Monday, February 9, 2026

✅ যজুর্বেদ ২৫.১ - অশ্লীলতা❓
⚠️ মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায়
 
শাদং॑ দ॒দ্ভিরব॑কাং দন্তমূ॒লৈর্মৃদং॒ বর্স্বৈ॑স্তে॒ গাং দষ্ট্রা॑ভ্যা॒সর॑স্বত্যাঽঅগ্রজি॒হ্বং জি॒হ্বায়া॑ঽ উৎসা॒দম॑বক্র॒ন্দেন॒ তালু॒ বাজ॒ꣳহনু॑ভ্যাম॒পঽআ॒স্যেন॒ বৃষ॑ণমা॒ণ্ডাভ্যা॑মাদি॒ত্যাঁ শ্মশ্রু॑ভিঃ॒ পন্থা॑নং ভ্রূ॒ভ্যাং দ্যাবা॑পৃথি॒বী বর্ত্তো॑ভ্যাং বি॒দ্যুতং॑ ক॒নীন॑কাভ্যা শু॒ক্রায়॒ স্বাহা॑ কৃ॒ষ্ণায়॒ স্বাহা॒ পার্যা॑ণি॒ পক্ষ্মা॑ণ্যবা॒র্যাঽই॒ক্ষবো॑ঽবা॒র্যাণি॒ পক্ষ্মা॑ণি॒ পার্যা॑ ই॒ক্ষবঃ॑॥
যজুর্বেদ ২৫.১
 
▪️সপদার্থান্বয়: হে জিজ্ঞাসোবিদ্যার্থিন্ ! তে তব দদ্ভিঃ দন্তৈ: শাদং শীয়তে=ছিনত্তি যস্মিংস্তং শাদং, দন্তমূলৈঃ দন্তানাং মূলৈঃ বর্স্বৈঃ দন্তপৃষ্ঠৈঃ চ অবকাং রক্ষিকাং মৃদং মৃত্তিকাং, দংষ্ট্রাভ্যাং মুখহন্তাভ্যাং সরস্বত্যৈ প্রশস্তবিজ্ঞানবত্যৈ বাচে গাং বাণীং, জিহ্বায়া অগ্রজিহ্বং জিহ্বায়া অগ্রম্, অবক্রন্দেন বিকলতারহিতেন উৎসাদম্ ঊর্ধ্বং সীদন্তি যস্মিঁস্তং তালু আস্যাবয়বং, হনুভ্যাং মুখৈকদেশাভ্যাং বাজম্ অন্নম্, আস্যেন আস্যন্দন্তি=ক্লেদীভবন্তি যস্মিঁস্তেন অপঃ জলানি, আণ্ডাভ্যাং বীর্যাধারাভ্যাং বৃষণং বর্ষয়িতারং, শ্মশ্রুভিঃ মুখাঽভিতঃ কেশৈঃ আদিত্যান্ মুখ্যান্ বিদুষঃ, ভ্রূভ্যাং নেত্রগোলকোর্ধ্বাঽবয়বাভ্যাং পন্থানং মার্গং, বর্ত্তোভ্যাং গমনাগমনাভ্যাং দ্যাবাপৃথিবী সূর্যভূমী, কনীনকাভ্যাং তেজোময়াভ্যাং কৃষ্ণগোলকতারকাভ্যাং বিদ্যুতং তডিতম্ অহং বোধয়ামি। ত্বয়া শুক্রায় বীর্যায় স্বাহা ব্রহ্মচর্যক্রিয়যা, কৃষ্ণায় বিদ্যাকর্ষণায় স্বাহা সুশীলতায়ুক্তয়া ক্রিয়যা, পার্যাণি পরিতুং=পূরয়িতুং যোগ্যানি পক্ষ্মাণি পরিগ্রহীতুং যোগ্যানি কর্মাণি নেত্রোর্ধ্বলোমানি বা, অবার্যাঃ অবারে ভবাঃ ইক্ষবঃ ইক্ষুদণ্ডা:, অবার্যাণিঅবারেষু ভবানি পক্ষ্মাণি পরিগ্রহণানি লোমানি বা, পার্যাঃ পরিতুং=পালয়িতুং যোগ্যাঃ ইক্ষবঃ গুডাদিনিমিত্তাঃ চ সঙ্গ্রাহ্যাঃ॥
 
🔹মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ভাষ্য: (শাদম্) শীয়তে=ছিনত্তি যস্মিঁস্তং শাদম্ (দদ্ভিঃ) দন্তৈ: (অবকাম্) রক্ষিকাম্ (দন্তমূলৈঃ) দন্তানাং মূলৈঃ (মৃদম্) মৃত্তিকাম্ (বর্স্বৈ) দন্তপৃষ্ঠৈঃ (তে) তব (গাম্) বাণীম্ (দংষ্ট্রাভ্যাম্) মুখদন্তাভ্যাম্ (সরস্বত্যৈ) প্রশস্তবিজ্ঞানবত্যৈ বাচে (অগ্রজিহ্বম্) জিহ্বায়া অগ্রম্ (জিহ্বায়াঃ) (উৎসাদম্) ঊর্ধ্বং সীদন্তি যস্মিঁস্তম্ (অবক্রন্দেন) বিকলতারহিতেন (তালু) আস্যাবয়বম্ (বাজম্) অন্নম্ (হনুভ্যাম্) মুখৈকদেশাভ্যাম্ (অপঃ) জলানি (আস্যেন) আস্যন্দন্তি=ক্লেদী ভবন্তি যস্মিঁস্তেন (বৃষণম্) বর্ষয়িতারম্ (আণ্ডাভ্যাম্) বীর্যাধারাভ্যাম্ (আদিত্যান্) মুখ্যান্ বিদুষঃ (শ্মশ্রুভিঃ) মুখাঽভিতঃ কেশৈঃ (পন্থানম্) মার্গম্ (ভ্রূভ্যাম্) নেত্রগোলকোর্ধ্বাঽবয়বাভ্যাম্ (দ্যাবাপৃথিবী) সূর্যভূমী (বর্ত্তোভ্যাম্) গমনাগমনাভ্যাম্ (বিদ্যুতম্) তডিতম্ (কনীনকাভ্যাম্) তেজোময়াভ্যাং কৃষ্ণগোলকতারকাভ্যাম্ (শুক্লায়) বীর্যায় (স্বাহা) ব্রহ্মচর্যক্রিয়যা (কৃষ্ণায়) বিদ্যাকর্ষণায় (স্বাহা) সুশীলতায়ুক্ত্যা ক্রিয়যা (পার্যাণি) পরিতুং=পূরয়িতুং যোগ্যানি (পক্ষ্মাণি) পরিগ্রহীতুং যোগ্যানি কর্মাণি নেত্রোর্ধ্বলোমানি বা (অবার্যাঃ) অবারেভবাঃ (ইক্ষবঃ) ইক্ষুদণ্ডাঃ (অবার্যাণি) অবারেষু ভবানি (পক্ষ্মাণি) পরিগ্রহণানি লোমানি বা (পার্যাঃ) পরিতুং=পালয়িতুং যোগ্যাঃ (ইক্ষবঃ) গুডাদিনিমিত্তাঃ ॥
 
 
🔲বাংলা সরলীকৃত অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে জিজ্ঞাসু জ্ঞানাভিলাষী বিদ্যার্থী!
১. (তে) তোমার (দদ্ভিঃ) দন্তের সাহায্যে (শাদম্) ছেদনের কাজকে ,
[দাঁত দিয়ে খাদ্যদ্রব্য ছিড়ে টুকরো করে খেতে হবে]
২. (দন্তমূলৈঃ) দন্তপংক্তির মূল এবং (বর্স্বৈঃ) দন্ত-পৃষ্ঠভাগ দ্বারা (অবকাম্) রক্ষক (মৃদম্) মাটিকে,
[দাঁতের মূল অর্থাৎ মাড়ি ও দাঁতের পৃষ্ঠভাগ দ্বারাখাবারকে মুখবিবরে সংরক্ষিত রেখে চিবিয়ে মাটির মতো নরম করতে হবে]
৩. (দ্রংষ্ট্রাভ্যাম্) ছেদনদন্ত ও (সরস্বত্যৈ) বিশেষ জ্ঞানযুক্তা উক্তির জন্য (গাম্) বাণীকে,
[ছেদনদন্ত যেভাবে তীক্ষ্ণ হয় সেভাবে আমাদের বাণী যেন জ্ঞানতীক্ষ্ণতা যুক্ত হয়]
৪. (জিহ্বায়াঃ) জিহ্বা দ্বারা (অগ্রজিহ্বম্) জিহ্বাগ্রভাগকে,
[জিহ্বা যেন জিহ্বার অগ্রভাগ দ্বারা আহারকে চালিত করে ও বর্ণের উচ্চারণে সহায়তা করে]
৫. (অবক্রন্দেন) বিকলতা-রহিত আচরণ দ্বারা (উৎসাদম্) মুখবিবরের ঊর্ধ্বস্থান (তালু) তালুস্থানকে,
[উচ্চারণে কোনো ত্রুটি ছাড়া যেন তালব্যধ্বনিসমূহ উচ্চারিত হয়]
৬. (হনুভ্যাম্) চিবুকের উভয় পার্শ্বস্থ অংশ দ্বারা (বাজম্) অন্নকে,
[অর্থাৎ ভালোভাবে চিবিয়ে যেন আহার্য দ্রব্য খাওয়া হয়]
৭. (আস্যেন) ভক্ষ্য-পদার্থসমূহকে রস সিক্তকারী মুখ দ্বারা (অপঃ) জলকে,
[মুখে বিদ্যমান লালাগ্রন্থির মাধ্যমে যেন খাদ্যদ্রব্য নরম হয়]
৮. (আণ্ডাভ্যাম্) বীর্যকে উত্তমরূপে ধারণকারী অণ্ডকোষদ্বয় দ্বারা (বৃষণম্) বীর্যসেচনকারী অঙ্গকে,
[অণ্ডকোষ বীর্য ধারণ করে, ব্রহ্মচর্যাদি অবলম্বনপূর্বক প্রজননতন্ত্র সুস্থ রাখতে হবে]
৯. (শ্মশ্রুভিঃ) মুখমণ্ডলকে আবৃতকারী দাড়ি দ্বারা (আদিত্যান্) মূখ্য বিদ্বানকে,
[ব্রহ্মচর্যকাল বৃদ্ধির সাথে সাথে বয়স্কাল বৃদ্ধি পায়, মুখে শ্মশ্রু বা দাঁড়ির লক্ষণ দেখা যায়, এভাবে সকলের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ বিদ্বানকে চিহ্নিত করা যায়]
১০. (ভ্রূভ্যাম্) নেত্র গোলকের ঊর্ধ্বভাগ অর্থাৎ ভ্রূদ্বয় দ্বারা (পন্থাম্) পথকে,
[চোখ সঞ্চালনের সাথে ভ্রুও সঞ্চালিত হয়, ভ্রুদ্বয় যেভাবে পরস্পররের বিপরীত দিকে যেভাবে যেন আমাদের চলার পথেও আমরা অনুকূল-প্রতিকূল পথ যেন চিনতে পারি]
১১. (বর্তোভ্যাম্) গমনাগমন দ্বারা (দ্যাবাপৃথিবী) সূর্য ও ভূমি,
[যেভাবে নির্দিষ্ট নিয়মাবলির মাধ্যমে সূর্য-পৃথিবী আবর্তন করে যেভাবেই আমরাও যেন গতিশীল মানবজীবন অতিবাহিত করার সময় নিয়মতান্ত্রিকতা অবলম্বন করি]
১২. (কনীনকাভ্যাম্) তেজদীপ্ত নেত্রদ্বয়ের কৃষ্ণবর্ণ গোলাকার তারা দ্বারা (বিদ্যুতম্) বিদ্যুতের
[যেভাবে চোখের তারা (pupil) বিদ্যুৎ অর্থাৎ আলোর তীব্রতা-ক্ষীণতার উপর ভিত্তি করে ছিদ্রটি ছোট-বড় হয়; এভাবে যেন আমরা জীবনে প্রয়োজনীয় সময়ে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করি]
— বোধ আমি করাই। [অর্থাৎ আচার্য অঙ্গ-প্রতঙ্গের গুরুত্ব সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছেন এবং তার থেকে সূক্ষ্ম শিক্ষামূলক বিষয়ও বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আচার্য এবার উপদেশ দিচ্ছেন...]
[হে বিদ্যার্থী,] তুমি—
[১] (শুক্রায়) বীর্যের জন্য (স্বাহা) ব্রহ্মচর্য পালন,
[২] (কৃষ্ণায়) বিদ্যা আকর্ষণ করিবার জন্য (স্বাহা) সুশীলতা যুক্ত আচরণ,
[৩] (পার্য়াণি) পূর্ণ করিবার উপযুক্ত বচন,
[৪] (পক্ষ্মাণি) গ্রহণীয় কর্ম অথবা চোখের পাতার উপরিভাগের লোম,
[৫] (অবার্য়াঃ) নদী কুলভূমিতে উৎপন্ন (ইক্ষবঃ) ইক্ষু বা আখ,
[৬] (অবার্য়াণি) নদী প্রভৃতির কুলে উৎপন্ন পদার্থ, (পক্ষ্মাণি) গ্রহণীয় কর্ম বা লোম এবং (পার্য়াঃ) পালনীয় (ইক্ষবঃ) ইক্ষুদণ্ড যা গুড় প্রস্তুতের জন্য আছে, সেই সমস্ত পদার্থ উত্তম রূপে গ্রহণ করার জন্য জানবে।
 
🔰 ভাবার্থ: [সংস্কৃত] অধ্যাপকাঃ শিষ্যাণামঙ্গান্যুপদেশেন পুষ্টানি কৃত্বাঽঽহারবিহারাদিকং সম্বোধ্য সর্বা বিদ্যাঃ প্রাপয়্যাখণ্ডিতং ব্রহ্মচর্যং সেবয়িত্বৈশ্বর্যং প্রাপয়্য সুখিনঃ সম্পাদয়েয়ুঃ॥ [কৃষ্ণায়=বিদ্যাপ্রাপ্তয়ে । শুক্রায়=অখণ্ডিতব্রহ্মচর্যসেবনায়।]
▪️ভাবার্থ: [অনুবাদ] অধ্যাপকগণ নিজের শিষ্যদের উপদেশ প্রদান করে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পরিপুষ্ট করিয়ে, আহার-বিহার প্রভৃতি বিষয়ে যথাযথ বোধ করিয়ে, সর্বপ্রকার বিদ্যা লাভ দ্বারা—অখণ্ডিত ব্রহ্মচর্য পালন করাবে এবং ঐশ্বর্যবান করিয়ে সুখী করবে।
 
 
 
🔰 সারার্থদর্শিনী: এই মন্ত্রাংশে মানবদেহের মুখগহ্বর, বাক্‌যন্ত্র, দৃষ্টি ও প্রজননশক্তি—এই সবকিছুকে একত্রে ধরে জ্ঞানার্জন ও চরিত্রগঠনের একটি সমন্বিত বৈজ্ঞানিক কাঠামো বোঝানো হয়েছে। দন্ত, দন্তমূল ও দন্তপৃষ্ঠ খাদ্যকে ছেদন–পেষণ করে যেমন দেহে পুষ্টি সরবরাহের ভিত্তি গড়ে তোলে, তেমনি জিহ্বা, জিহ্বাগ্র, তালু ও চোয়ালের সমন্বিত ক্রিয়ায় উচ্চারণ, বাণী ও জ্ঞানপ্রকাশ সম্ভব হয় যা আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে speech apparatus-এর সমবায় কাজ। মুখে জল ও খাদ্যের সংমিশ্রণ হজমের সূচনা করে এবং দেহে শক্তি উৎপাদনের প্রথম ধাপ তৈরি হয়। চোখ, ভ্রু ও চোখের তারার উল্লেখ দৃষ্টিশক্তি, আলো গ্রহণ ও স্নায়বিক সংকেতের দিকে ইঙ্গিত করে, যা বিদ্যুৎতুল্য স্নায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে জ্ঞানবোধ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে অণ্ডকোষ ও প্রজননাঙ্গের উল্লেখ শারীরিক শক্তি ও সংযমের সম্পর্ক দেখায়, যেখানে ব্রহ্মচর্য ও সুশীল আচরণ দেহ ও মনের শক্তিকে সংরক্ষণ করে বিদ্যাগ্রহণে সহায়তা করে। শেষাংশে গ্রহণযোগ্য কর্ম, উপযোগী বাক্য ও উপকারী বস্তু (যেমন ইক্ষু) গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, যেমন দেহে সঠিক খাদ্য বেছে নিতে হয়, তেমনি জ্ঞান ও আচরণেও নির্বাচন জরুরি। অর্থাৎ এই মন্ত্রে দেহের অঙ্গ, ইন্দ্রিয়, শক্তি ও নৈতিক আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে মানবজীবনের একটি যুক্তিসংগত, কার্যকারণ-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা উপস্থাপিত হয়েছে।
 
📛পূর্বপক্ষ: দয়ানন্দ এখানে মুখের দাঁড়িতে ও চোখে লিঙ্গ স্পর্শ/ঘষতে বলেছে।
✅ উত্তরপক্ষ:  
  • প্রথমত, মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী 'আণ্ডাভ্যাং বীর্যাধারাভ্যাং বৃষণং বর্ষয়িতারং' এই অংশটি ও 'শ্মশ্রুভিঃ মুখাঽভিতঃ কেশৈঃ আদিত্যান্ মুখ্যান্ বিদুষঃ' পৃথকভাবে পদার্থ ও অন্বয় করেছেন।
  • দ্বিতীয়ত, অপপ্রচারকারী 'স্পর্শ/ঘষতে' যে শব্দটি প্রয়োগ করেছেন তার উৎস কী ? ঠিক কোন পদে এটি রয়েছে ?
  • তৃতীয়ত, মহর্ষি প্রতিটি ভাগে পূর্বপদ ও পরপদ অর্থাৎ পূর্বে আগে অঙ্গ ও তারপর কর্ম লিখেছেন। সেভাবে 'আণ্ডাভ্যাম্ বৃষণম্' ও 'শ্মশ্রুভিঃ আদিত্যান্' লিখেছেন। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রসঙ্গ।
  • চতুর্থত, বৃষণম্ যদি শ্মশ্রুভিঃ-এর সাথে সংযুক্ত হবে তবে আদিত্যান্ পদটি কার সাথে যুক্ত হবে? কারণ ভাষ্যে স্পষ্ট ভ্রুভ্যাম্ ও পন্থানাম্ সংযুক্ত। তাহলে আদিত্যান্ = মুখ্যান্ বিদুষঃ কি পূর্বপদ হীন ? অবশ্যই নয়।
তাই, অপপ্রচারকারীর উক্ত অর্থ সম্পূর্ণ নিজের কলুষিত মস্তিষ্ক প্রসূত। কারণ তাদের পরম্পরাগত সায়ণ, মহীধর, উবটের ভাষ্যে রয়েছে—
 
⚠️ উবটভাষ্য: শাদং দদ্ভিঃ । ইয়মপি শ্রুতির্দেবতাশ্বাঙ্গয়োশ্চোদনাং বিদধাতি । শাদো দেবতাবিশেষঃ দন্তা অশ্বাঙ্গম্ । শাদং দদ্ভিঃ প্রীণাতি দেবতা ভোক্ত্রী দ্বিতীয়যা নির্দিশ্যতে । অশ্বাঙ্গং ভোগ্যং তৃতীয়যা করণবিভক্ত্যা নির্দিশ্যতে । এবং হি বিভক্ত্যোঃ সামর্থ্যং ভবতি । যুক্তঞ্চ হোমকালে অঙ্গাভিধানং দেবতায়ৈ হোমঃ । আহচ শ্রুতিঃ । 'আজ্যমবদানীকৃত্বা প্রত্যাখ্যায়ম্ দেবতাভ্য আহুতীর্জুহোতীতি দদ্ভিঃ শাদায় স্বাহা । দন্তমূলৈরবকায় স্বাহা' ইত্যেবং প্রয়োগাঃ । ক্বচিচ্চ দেবতা কেবলা ভবতি যথা শুক্লায়স্বাহা কৃষ্ণায়স্বাহেতি । ক্বচিচ্চান্যযা বিভক্ত্যা নির্দেশো দ্রব্যদৈবতয়োঃ যথা অগ্নেঃ পক্ষতির্বায়োর্নিপক্ষতিরিতি । এবং দ্রব্যদৈবতমপ্রসিদ্ধং যজ্ঞপার্শ্বাদিভ্যোঽবগন্তব্যমিতি পৃথিবীং ত্বচেতি যাবৎ ॥
⚠️মহীধরভাষ্য: সম্পূর্ণ উবটভাষ্যের অনুকরণ। 
 
 
 
⚠️ করপাত্রভাষ্য: মহীধর ও উবটভাষ্যের চৌর্যবৃত্তিরূপ অনুকরণ।
 
 
 

 
 
⚠️সায়ণভাষ্য: [মাধ্যন্দিন শাখাতে সায়ণভাষ্য নেই, এই মন্ত্রটি কাণ্বশাখায় (২৭।১) পাওয়া যায়। তাৎপর্য ও ভাষ্য শব্দভেদ হলেও অর্থভেদ নেই] যথা: অশ্বদন্তৈঃ প্রীণয়ামি...বৃষণং বর্ষণশীলং পর্জন্যম্, আণ্ডাভ্যাং হবির্ভ্যাম্ প্রীণয়ামি ।
 
 
 
 
 
🔴 :রামকৃষ্ণ মিশন অব কালচারাল ইনস্টিটিউট-কৃত অনুবাদ: শাদদেবতাকে অশ্বের দন্তসমূহের দ্বারা প্রীত করছি। দন্তমূলের দ্বারা অবকাদেবতাকে সন্তুষ্ট করছি। দন্তপীঠের দ্বারা মৃদ্দেবতার প্রীতিবিধান করছি। ২টি দংষ্ট্রার দ্বারা তেগাদেবতার প্রীতি সম্পাদন করছি। জিহ্বার অগ্রভাগের দ্বারা সরস্বতী দেবতাকে প্রীত করছি। জিহ্বার দ্বারা উৎসাদ-দেবতার প্রীতি সম্পাদন করছি। তালুর দ্বারা অবক্রন্দদেবতাকে প্রীত করছি। বাজদেবতাকে হনুযুগলের দ্বারা প্রীত করছি। জলের দেবতাকে মুখের দ্বারা প্রীত করছি। ২টি অণ্ডকোষের দ্বারা বৃষণদেবতার সন্তুষ্টি বিধান করছি। দ্বাদশ আদিত্যকে শ্মশ্রুর দ্বারা অর্থাৎ মুখস্থিত কেশের দ্বারা সন্তুষ্ট করছি। পথের দেবতাকে ললাটস্থিত ২টি রোমপঙ্ক্তি অর্থাৎ ভ্রূযুগলের দ্বারা প্রীত করছি। দ্যুলোক এবং পৃথিবীলোকের দেবতাকে পক্ষ্মপঙ্ক্তিদ্বয়ের দ্বারা প্রীত করছি। বিদ্যুতের দেবতাকে কনীনক অর্থাৎ নেত্রযুগলের মধ্যভাগে অবস্থিত কৃষ্ণবর্ণের ২টি গোলকের দ্বারা প্রীত করছি। শুক্ল এবং কৃষ্ণদেবতাকে আজ্যাহুতির দ্বারা প্রীত করছি। অথবা অশ্বের শুক্ল এবং কৃষ্ণ অঙ্গের দ্বারা প্রজাপতির প্রীতি উৎপাদন করছি। পারদেবতাকে নেত্রের উপরিস্থিত রোমের দ্বারা প্রীত করছি। নেত্রের অধোভাগে স্থিত রোমের দ্বারা অবারদেবতার প্রীতি উৎপন্ন করছি। অথবা পক্ষ্মসমূহের দ্বারা অবারদেবতার প্রীতি উৎপন্ন করছি, ইক্ষুর দ্বারা পারদেবতার প্রীতি উৎপন্ন করছি। 
 

 
 
⚠️ দিলীপ কুমার পৌরাণিকোত্তম-কৃত অনুবাদ (অক্ষয় লাইব্রেরী) একইরকম।
▪️বলা বাহুল্য, করপাত্র-ভাষ্য একই ধারার অনুবাদ। পণ্ডিত জ্বালাপ্রসাদ মিশ্রের 'মিশ্রভাষ্য' কিংবা শ্রী সত্যব্রত সামশ্রমি ভট্টাচার্য, রামস্বরূপ শর্মা, শ্রী বিজনবিহারী গোস্বামী, ড. রেখা ব্যাস প্রভৃতির অনুবাদ একই রকম। অর্থাৎ সকলেই সায়ণ-মহীধর-উবটের অন্ধানুসারী। অরূপসমৃদ্ধ বিনিয়োগের অগ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি। স্থানাভাবভয়ে পুনরায় উল্লেখ করা হলো না। 
 
🔲 লক্ষ্যণীয় বিষয়, পৌরাণিকদের মত অনুযায়ী, এই মন্ত্রের মাধ্যমে,
▪️প্রথমে ঘোড়াকে হত্যা করতে হবে এরপর, তার অঙ্গ আজ্য-ঘৃতে কল্পনা করে অগ্নিতে নানা দেবতার উদ্দেশ্যে আহুতি দিতে হবে, সেসব দেবতার জন্য আজ্যে অঙ্গ কল্পনা করে পৌরাণিকরা তাদের প্রীতিসাধন=খুশি করবে। কাদের কী কল্পনা করে কী আহুতি দেওয়া হবে সায়ণ-মহীধর-উবটাচার্যের অনুসারীদের মতে দেখি-
১. ঘোড়ার দাঁত দিয়ে শাদ দেবতাকে খুশি করবে।
২. ঘোড়ার দাঁতমূল অর্থাৎ মাড়ি দিয়ে অবকাদেবতাকে খু্শি করবে।
৩. ঘোড়ার দন্তপীঠ দিয়ে তেগাদেবতা খুশি করবে। [যে দেবতার কোনো আগামাথাই নাই বৈদিক শাস্ত্রে]
৪. ঘোড়ার জিহ্বা, জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে যথাক্রমে উৎসাদ, সরস্বতী দেবতাকে খুশি করবে।
৫. ঘোড়ার তালু, হনুদ্বয়, মুখ দিয়ে যথাক্রমে অবক্রন্দ, বাজ, জল দেবতাদের খুশি করবে।
৬. ঘোড়ার ২টি অণ্ডকোষ দিয়ে বৃষণ দেবতাকে খুশি করবে।
৭. ঘোড়ার মুখের লোম দিয়ে আদিত্য দেবতাকে খুশি করবে।
৮. ঘোড়ার বীর্য ভ্রু, পালক, অক্ষিগোলক দিয়ে পথ, দ্যুলোক, পৃথিবীর দেবতাকে খুশি করবে।
৯. ঘোড়ার চোখের পাতার উপরের লোম ও নিচের লোম দ্বারা পার ও অবার দেবতাদের খুশি করবে।
 


🔰 সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! কোথায় মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর করা শারীরবিদ্যার বিজ্ঞান, জাগতিক বিদ্যা, কীভাবে পরিপাক হবে ইত্যাদি সংক্রান্ত মন্ত্রার্থ আর কোথায় সায়ণ-মহীধর-উবট ও তাদের অন্ধানুসারীদের ঘোড়ার দাঁত, চোয়াল, রোম, জিহ্বা, চোখ, অণ্ডকোষ খাওয়া দেবতাবৃন্দ। যাদের উপাস্যের চরিত্রই এসব নির্বিবাদে আহার করা তাদের যে সদুপদেশ আর ভালো ভাষ্য রুচিসম্মত মনে হবে না এবং সেখানেও অশ্লীলতা দেখবে এটাই তো স্বাভাবিক। যাদের উপাস্যের কাজ হলো ঘোড়ার আগা-গোড়া সম্পূর্ণ খাওয়ার জন্য লালায়িত থাকা সেসব পৌরাণিক ভক্তকুল যে মহর্ষির ভাষ্য থেকে শারীরবিদ্যার বদলে এসব অপপ্রচার নিজের কল্পনার মাধ্যমে বের করবে তা আর বিচিত্র কী! আসুন তাদের জন্য পরমেশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাদের সন্মার্গে নিয়ে যান। 
 
ইত্যোম্

© বাংলাদেশ অগ্নিবীর