শাদং॑ দ॒দ্ভিরব॑কাং দন্তমূ॒লৈর্মৃদং॒ বর্স্বৈ॑স্তে॒ গাং দষ্ট্রা॑ভ্যা॒সর॑স্বত্যাঽঅগ্রজি॒হ্বং জি॒হ্বায়া॑ঽ উৎসা॒দম॑বক্র॒ন্দেন॒ তালু॒ বাজ॒ꣳহনু॑ভ্যাম॒পঽআ॒স্যেন॒ বৃষ॑ণমা॒ণ্ডাভ্যা॑মাদি॒ত্যাঁ শ্মশ্রু॑ভিঃ॒ পন্থা॑নং ভ্রূ॒ভ্যাং দ্যাবা॑পৃথি॒বী বর্ত্তো॑ভ্যাং বি॒দ্যুতং॑ ক॒নীন॑কাভ্যা শু॒ক্রায়॒ স্বাহা॑ কৃ॒ষ্ণায়॒ স্বাহা॒ পার্যা॑ণি॒ পক্ষ্মা॑ণ্যবা॒র্যাঽই॒ক্ষবো॑ঽবা॒র্যাণি॒ পক্ষ্মা॑ণি॒ পার্যা॑ ই॒ক্ষবঃ॑॥
যজুর্বেদ ২৫.১
১. (তে) তোমার (দদ্ভিঃ) দন্তের সাহায্যে (শাদম্) ছেদনের কাজকে ,
[দাঁত দিয়ে খাদ্যদ্রব্য ছিড়ে টুকরো করে খেতে হবে]
২. (দন্তমূলৈঃ) দন্তপংক্তির মূল এবং (বর্স্বৈঃ) দন্ত-পৃষ্ঠভাগ দ্বারা (অবকাম্) রক্ষক (মৃদম্) মাটিকে,
[দাঁতের মূল অর্থাৎ মাড়ি ও দাঁতের পৃষ্ঠভাগ দ্বারাখাবারকে মুখবিবরে সংরক্ষিত রেখে চিবিয়ে মাটির মতো নরম করতে হবে]
৩. (দ্রংষ্ট্রাভ্যাম্) ছেদনদন্ত ও (সরস্বত্যৈ) বিশেষ জ্ঞানযুক্তা উক্তির জন্য (গাম্) বাণীকে,
[ছেদনদন্ত যেভাবে তীক্ষ্ণ হয় সেভাবে আমাদের বাণী যেন জ্ঞানতীক্ষ্ণতা যুক্ত হয়]
[জিহ্বা যেন জিহ্বার অগ্রভাগ দ্বারা আহারকে চালিত করে ও বর্ণের উচ্চারণে সহায়তা করে]
৫. (অবক্রন্দেন) বিকলতা-রহিত আচরণ দ্বারা (উৎসাদম্) মুখবিবরের ঊর্ধ্বস্থান (তালু) তালুস্থানকে,
[উচ্চারণে কোনো ত্রুটি ছাড়া যেন তালব্যধ্বনিসমূহ উচ্চারিত হয়]
৬. (হনুভ্যাম্) চিবুকের উভয় পার্শ্বস্থ অংশ দ্বারা (বাজম্) অন্নকে,
[অর্থাৎ ভালোভাবে চিবিয়ে যেন আহার্য দ্রব্য খাওয়া হয়]
৭. (আস্যেন) ভক্ষ্য-পদার্থসমূহকে রস সিক্তকারী মুখ দ্বারা (অপঃ) জলকে,
[মুখে বিদ্যমান লালাগ্রন্থির মাধ্যমে যেন খাদ্যদ্রব্য নরম হয়]
৮. (আণ্ডাভ্যাম্) বীর্যকে উত্তমরূপে ধারণকারী অণ্ডকোষদ্বয় দ্বারা (বৃষণম্) বীর্যসেচনকারী অঙ্গকে,
[অণ্ডকোষ বীর্য ধারণ করে, ব্রহ্মচর্যাদি অবলম্বনপূর্বক প্রজননতন্ত্র সুস্থ রাখতে হবে]
৯. (শ্মশ্রুভিঃ) মুখমণ্ডলকে আবৃতকারী দাড়ি দ্বারা (আদিত্যান্) মূখ্য বিদ্বানকে,
[ব্রহ্মচর্যকাল বৃদ্ধির সাথে সাথে বয়স্কাল বৃদ্ধি পায়, মুখে শ্মশ্রু বা দাঁড়ির লক্ষণ দেখা যায়, এভাবে সকলের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ বিদ্বানকে চিহ্নিত করা যায়]
১০. (ভ্রূভ্যাম্) নেত্র গোলকের ঊর্ধ্বভাগ অর্থাৎ ভ্রূদ্বয় দ্বারা (পন্থাম্) পথকে,
[চোখ সঞ্চালনের সাথে ভ্রুও সঞ্চালিত হয়, ভ্রুদ্বয় যেভাবে পরস্পররের বিপরীত দিকে যেভাবে যেন আমাদের চলার পথেও আমরা অনুকূল-প্রতিকূল পথ যেন চিনতে পারি]
১১. (বর্তোভ্যাম্) গমনাগমন দ্বারা (দ্যাবাপৃথিবী) সূর্য ও ভূমি,
[যেভাবে নির্দিষ্ট নিয়মাবলির মাধ্যমে সূর্য-পৃথিবী আবর্তন করে যেভাবেই আমরাও যেন গতিশীল মানবজীবন অতিবাহিত করার সময় নিয়মতান্ত্রিকতা অবলম্বন করি]
১২. (কনীনকাভ্যাম্) তেজদীপ্ত নেত্রদ্বয়ের কৃষ্ণবর্ণ গোলাকার তারা দ্বারা (বিদ্যুতম্) বিদ্যুতের
[যেভাবে চোখের তারা (pupil) বিদ্যুৎ অর্থাৎ আলোর তীব্রতা-ক্ষীণতার উপর ভিত্তি করে ছিদ্রটি ছোট-বড় হয়; এভাবে যেন আমরা জীবনে প্রয়োজনীয় সময়ে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করি]
— বোধ আমি করাই। [অর্থাৎ আচার্য অঙ্গ-প্রতঙ্গের গুরুত্ব সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছেন এবং তার থেকে সূক্ষ্ম শিক্ষামূলক বিষয়ও বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আচার্য এবার উপদেশ দিচ্ছেন...]
[হে বিদ্যার্থী,] তুমি—
[১] (শুক্রায়) বীর্যের জন্য (স্বাহা) ব্রহ্মচর্য পালন,
[২] (কৃষ্ণায়) বিদ্যা আকর্ষণ করিবার জন্য (স্বাহা) সুশীলতা যুক্ত আচরণ,
[৩] (পার্য়াণি) পূর্ণ করিবার উপযুক্ত বচন,
[৪] (পক্ষ্মাণি) গ্রহণীয় কর্ম অথবা চোখের পাতার উপরিভাগের লোম,
[৫] (অবার্য়াঃ) নদী কুলভূমিতে উৎপন্ন (ইক্ষবঃ) ইক্ষু বা আখ,
[৬] (অবার্য়াণি) নদী প্রভৃতির কুলে উৎপন্ন পদার্থ, (পক্ষ্মাণি) গ্রহণীয় কর্ম বা লোম এবং (পার্য়াঃ) পালনীয় (ইক্ষবঃ) ইক্ষুদণ্ড যা গুড় প্রস্তুতের জন্য আছে, সেই সমস্ত পদার্থ উত্তম রূপে গ্রহণ করার জন্য জানবে।
- প্রথমত, মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী 'আণ্ডাভ্যাং বীর্যাধারাভ্যাং বৃষণং বর্ষয়িতারং' এই অংশটি ও 'শ্মশ্রুভিঃ মুখাঽভিতঃ কেশৈঃ আদিত্যান্ মুখ্যান্ বিদুষঃ' পৃথকভাবে পদার্থ ও অন্বয় করেছেন।
- দ্বিতীয়ত, অপপ্রচারকারী 'স্পর্শ/ঘষতে' যে শব্দটি প্রয়োগ করেছেন তার উৎস কী ? ঠিক কোন পদে এটি রয়েছে ?
- তৃতীয়ত, মহর্ষি প্রতিটি ভাগে পূর্বপদ ও পরপদ অর্থাৎ পূর্বে আগে অঙ্গ ও তারপর কর্ম লিখেছেন। সেভাবে 'আণ্ডাভ্যাম্ বৃষণম্' ও 'শ্মশ্রুভিঃ আদিত্যান্' লিখেছেন। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রসঙ্গ।
- চতুর্থত, বৃষণম্ যদি শ্মশ্রুভিঃ-এর সাথে সংযুক্ত হবে তবে আদিত্যান্ পদটি কার সাথে যুক্ত হবে? কারণ ভাষ্যে স্পষ্ট ভ্রুভ্যাম্ ও পন্থানাম্ সংযুক্ত। তাহলে আদিত্যান্ = মুখ্যান্ বিদুষঃ কি পূর্বপদ হীন ? অবশ্যই নয়।
তাই, অপপ্রচারকারীর উক্ত অর্থ সম্পূর্ণ নিজের কলুষিত মস্তিষ্ক প্রসূত। কারণ তাদের পরম্পরাগত সায়ণ, মহীধর, উবটের ভাষ্যে রয়েছে—
১. ঘোড়ার দাঁত দিয়ে শাদ দেবতাকে খুশি করবে।
২. ঘোড়ার দাঁতমূল অর্থাৎ মাড়ি দিয়ে অবকাদেবতাকে খু্শি করবে।
৩. ঘোড়ার দন্তপীঠ দিয়ে তেগাদেবতা খুশি করবে। [যে দেবতার কোনো আগামাথাই নাই বৈদিক শাস্ত্রে]
৪. ঘোড়ার জিহ্বা, জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে যথাক্রমে উৎসাদ, সরস্বতী দেবতাকে খুশি করবে।
৫. ঘোড়ার তালু, হনুদ্বয়, মুখ দিয়ে যথাক্রমে অবক্রন্দ, বাজ, জল দেবতাদের খুশি করবে।
৬. ঘোড়ার ২টি অণ্ডকোষ দিয়ে বৃষণ দেবতাকে খুশি করবে।
৭. ঘোড়ার মুখের লোম দিয়ে আদিত্য দেবতাকে খুশি করবে।
৮. ঘোড়ার বীর্য ভ্রু, পালক, অক্ষিগোলক দিয়ে পথ, দ্যুলোক, পৃথিবীর দেবতাকে খুশি করবে।
৯. ঘোড়ার চোখের পাতার উপরের লোম ও নিচের লোম দ্বারা পার ও অবার দেবতাদের খুশি করবে।
ইত্যোম্
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর





0 মন্তব্য(গুলি)