https://www.idblanter.com/search/label/Template
https://www.idblanter.com
BLANTERORBITv101

যজুর্বেদ ১৯.৮৮ - প্রজননবিদ্যা নাকি অশ্লীলতা ?

Saturday, May 23, 2026

✅ যজুর্বেদ ১৯.৮৮ - প্রজননবিদ্যা নাকি অশ্লীলতা ❓
⚠️ মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায়
 
🔰প্রজননবিদ্যা জনসাধারণের জন্য কিছু লজ্জা বা কিছুটা হাসির বিষয় হলেও প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিমান, সুশিক্ষিত ও পণ্ডিতের জন্য একটি পবিত্র তত্ত্ব। স্বাভাবিকভাবেই ধর্মীয় বিধানের উপর ভিত্তি করে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরস্পরের সম্মতিতে গুণ-কর্ম-স্বভাবের উপর ভিত্তি করে পাণিগ্রহণই হলো বিবাহ। মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী যার সংজ্ঞায়ন করেছেন এভাবে—
 
❝নিয়মপূর্বক, প্রকাশ্যভাবে, স্বেচ্ছায় পাণিগ্রহণের নাম ‘বিবাহ’।❞
[সত্যার্থ-প্রকাশ, স্বমন্তব্যামন্তব্যপ্রকাশঃ]
 
আলোচ্য মন্ত্রটি হলো, 

মুখং সদস্য শিরঽইৎ সতেন জিহ্বা পবিত্রমশ্বিনাসন্ত্সরস্বতী। 
চপ্যং ন পায়ুর্ভিষগস্য বালো বস্তির্ন শেপো হরসা তরস্বী॥
যজুর্বেদ ১৯.৮৮
অনুবাদ: হে মানবগণ! যেভাবে (জিহ্বা) রস-গ্রহণকারী জিহ্বা (সরস্বতী) বাণীর ন্যায় জ্ঞানবতী স্ত্রী (অস্য) এই পতির (সতেন) সুন্দর অবয়বের দ্বারা বিভক্ত মস্তকের সঙ্গে (শিরঃ) মস্তক রাখে, (আসন্) মুখের সমীপে (পবিত্রম্) পবিত্র (মুখম্) মুখ রাখে, সেভাবে (অশ্বিনা) গৃহাস্থাশ্রমের কর্তব্য সম্পাদনে নিযুক্ত স্ত্রী পুরুষ উভয়েই (ইৎ) এভাবে ব্যবহার করবে, তথা যিনি (অস্য) এই রোগের কবল থেকে (পায়ুঃ) রক্ষাকর্তা (ভিষক্) বৈদ্য (বালঃ) এবং বালকের (ন) ন্যায় (বস্তিঃ) বাস করিবার কারণ পুরুষের,(শেপঃ) উপস্থেন্দ্রিয় (হরসা) বলের সহিত (তরস্বী) কার্যকরী হয়, উহা (চপ্যম্) শান্ত করার (ন) ন্যায় (সৎ) বর্তমান-উপস্থিত সময়ে সন্তান উৎপত্তির হেতু হোক, সেই সব যথাবৎ করবে।
ভাবার্থ: স্ত্রী ও পুরুষ গর্ভাধানকালে পরস্পর মিলিত হয়ে প্রেম পূর্ণভাবে মুখের সঙ্গে মুখ, চোখের সঙ্গে চোখ, মনের সঙ্গে মন, শরীরের সঙ্গে শরীরের অনুসন্ধান করে গর্ভ ধারণ করবে, যাতে কুরূপ বা বক্রাঙ্গ সন্তান উৎপন্ন না হয়।
 
 
এখানে ভাবার্থে মহর্ষি দয়ানন্দ স্পষ্ট লিখেছেন, 'স্ত্রীপুরুষৌ গর্ভাধানসময়ে' অর্থাৎ এই মন্ত্র মূলত গর্ভাধান ক্রিয়ার জ্ঞান সম্পর্কে বর্ণনা করছে।
 
অবশ্য, এই অনুবাদ পৌরাণিকদের পছন্দ হবে না। কারণ মহীধর-উবটের ভাষ্য অনুযায়ী এই মন্ত্রে অর্থ হলো—
 
“সৎ (একটি পাত্রবিশেষ) ইন্দ্রের মুখরূপে নির্মিত হয়েছিল। ঐ সতের দ্বারাই ইন্দ্রের মস্তক নির্মিত হয়েছিল। পবিত্রের দ্বারা ইন্দ্রের জিহ্বা তৈরী হয়েছিল। অশ্বিনীযুগল এবং সরস্বতীদেবতা মুখ হয়েছিলেন। চপ্য এঁর পায়ু-ইন্দ্রিয় হয়েছিল। বালের দ্বারা অর্থাৎ সুরাগলনের বস্ত্রের দ্বারা এই ইন্দ্রের বৈদ্য, বস্তি অর্থাৎ গুহ্য এবং লিঙ্গ নির্মিত হয়েছিল এবং সেই লিঙ্গ বীর্যের দ্বারা অত্যন্ত বেগবান হয়েছিল।”
[সূত্র: বেদগ্রন্থমালা > ৩য় খণ্ড শুক্লযজুর্বেদ > মাধ্যন্দিন সংহিতা ১ম ভাগ পৃষ্ঠা ৪৪০]
 
 
অতএব, ইন্দ্রের লিঙ্গ-গুহ্য-পায়ু নির্মাণে যাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ, তাদের অন্তত আর যাই হোক বেদ নিয়ে কথা বলাটা শোভা দেয় না। 
 
অভিযোগ: এই মন্ত্রের অনুবাদ ও ভাবার্থ অশ্লীল। স্বামী-স্ত্রী সমাগমের এমন বর্ণনা বেদের ভাষ্যানুবাদে করা অপরাধ ও বেদের অমর্যাদা।  
উত্তর: বেদ সর্ববিদ্যার মূল গ্রন্থ। স্বামী-স্ত্রীর বৈধ কাম ও সন্তান প্রজননের নিমিত্তে গর্ভাধান কখনোই অশ্লীল নয়, পাশাপাশি গর্ভাধানের সংস্কার অব্দি প্রচলিত। চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রজননতন্ত্র ও প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সাধারণে তা হাস্যপরিহাসের বিষয় কারণ জনসাধারণে এটি মূর্খের ন্যায় আলোচিত হয়। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানীর কাছে তা গভীর সৃষ্টিচক্রেরই একটি অপূর্ব রহস্য। সুতরাং মূর্খেরাই এরা তাৎপর্য না বুঝে নিন্দা করবে। বৈদিক শাস্ত্রে অজস্রস্থানে প্রজনন-গর্ভাধান ক্রিয়ার বর্ণনা রয়েছে। উদাহরণ—
 
১। স যামিচ্ছেৎ কাময়েত মেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়, উপস্থমস্যা অভিমৃশ্য জপেৎ— অঙ্গাদঙ্গাৎসম্ভবসি, হৃদয়াদধিজায়সে । স ত্বমঙ্গকষায়ো'সি, দিগ্ধবিদ্ধমিব মাদয়েমামমূং ময়ীতি ॥
অথ যামিচ্ছেন্ ন গর্ভং দধীতেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়, অভিপ্রাণ্যাপান্যাৎ, ইন্দ্রিয়েণ তে রেতসা রেত আদদ ইতি; অরেতা এব ভবতি ॥
অথ যামিচ্ছেদ্দধীতেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়, অপান্যাভিপ্রাণ্যাৎ, ইন্দ্রিয়েণ তে রেতসা রেত আদধামীতি; গর্ভিণ্যেব ভবতি ॥
বৃহদারণ্যক উপনিষদ্ ৬।৪।৯-১১, মাধ্যন্দিন শতপথ ব্রাহ্মণ ১৪।৯।৪।৯-১১
অনুবাদ: যথোক্তগুণসম্পন্ন পুরুষ যাকে ইচ্ছা করেন যে, এই স্ত্রী আমাকে কামনা করুক; সেই স্ত্রীতে আপনার জননেন্দ্রিয় স্থাপন করে নিজের মুখের সঙ্গে তার মুখ মিলিত করে, জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করে-'অঙ্গাদঙ্গাতৎ' ইত্যাদি মন্ত্র জপ করবেন। সেই পুরুষ যদি ইচ্ছা করেন, উক্ত স্ত্রী গর্ভধারণ না করেন, তাহলে জননেন্দ্রিয় স্থাপন পূর্বক, মুখে মুখ মিলিয়ে-স্ত্রীদেহে বায়ুপ্রেরণ সম্পাদনের দ্বারা 'ইন্দ্রিয়েণ তে' ইত্যাদি মন্ত্রে অপান-বায়ুর কার্য করবেন। এরূপ করলে সেই স্ত্রী গর্ভধারণ করবেন না। সেই পুরুষ যে স্ত্রীকে গর্ভধারিণী করতে ইচ্ছা করেন, পূর্বের ন্যায় অর্থ নিবেশন করে প্রথমে স্ত্রীদেহ থেকে বায়ু আকর্ষণ করবেন, তারপর 'ইন্দ্রিয়েণ তে' ইত্যাদি মন্ত্রে অভিপ্রাণন অর্থাৎ স্ববায়ু স্ত্রীদেহে সঞ্চারণ করবেন। এরূপ হলে সেই স্ত্রী নিশ্চয়ই গর্ভিণী হবেন।
[সূত্র: বেদগ্রন্থমালা > ১৯তম খণ্ড > প্রধান উপনিষদ্ > বৃহদারণ্যক ৬.৪.৯-১১, পৃষ্ঠা ৪৬১-৬২]
 



এভাবে স্পষ্ট বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও যদি না জানেন মহর্ষি দয়ানন্দ কোথা থেকে বিস্তারিত পাঠ করেছেন ও লিখেছেন সত্যার্থপ্রকাশে তবে বলব, অন্ততঃ নিজেদের আচার্যদের ভাষ্য তো পড়ুন। অজ্ঞতা প্রদর্শন খুব একটা গর্বের কাজ নয়।
 
২। ন চ ন্যুব্জাং পার্শ্বগতাং বা সংসেবেত। ন্যুব্জায়া বাতো বলবান্ স যোনিং পীডয়তি, পার্শ্বগতায়া দক্ষিণে পার্শ্বে শ্লেষ্মা স চ্যুতঃ পিদধাতি গর্ভাশয়ং, বামে পার্শ্বে পিত্তন্তদস্যাঃ পীড়িতং বিদহতি রক্তং শুক্রং চ, তস্মাদুত্তানা বীজং গৃহ্ণীয়াৎ; তথাহি যথাস্থানমবতিষ্ঠন্তে দোষাঃ। পর্যাপ্তে চৈনাং শীতোদকেন পরিষিঞ্চেৎ। তত্রাত্যশিতা ক্ষুধিতা পিপাসিতা ভীতা বিমনাঃ শোকার্তা ক্রুদ্ধাঽন্যং চ পুমাংসমিচ্ছন্তী মৈথুনে চাতিকামা বা ন গর্ভং ধত্তে,বিগুণাং বা প্রজাং জনয়তি।
চরক সংহিতা শারীরস্থান ৮।৬
অনুবাদ: স্ত্রীকে ন্যুব্জ বা পার্শ্বগত ভাবে শয়ন করিয়ে সঙ্গম করবে না। ন্যুব্জ অবস্থায় রমণ করলে, বায়ু বলবান হয়ে যোনিকে পীড়িত করে। পার্শ্বগত অবস্থায় থাকলে, দক্ষিণ পার্শ্বে শ্লেষ্মা সঞ্চিত হয়ে গর্ভাশয় আচ্ছাদিত করে, এবং বামপার্শ্বে পিত্ত পীড়িত হয়ে গর্ভাশয়গত শুক্র-শোণিতকে বিদগ্ধ করে। অতএব স্ত্রী উত্তানভাবে (চিৎ হয়ে) শয়ন করে বীজগ্রহণ করবে। কারণ, উত্তানভাবে থাকলে, তার বাতাদি দোষসকল যথাস্থানে অবস্থিত থাকে। মৈথুনান্তে স্ত্রী, শরীরে শীতল জল পরিষেচন করবে। অতিভুক্তা, ক্ষুধিতা, পিপাসিতা, ভীতা, বিমনাঃ, শোকার্তা, ক্রুদ্ধা, রমণকালে অন্য পুরুষাকাঙ্ক্ষিণী, কিংবা অতিকামার্তা স্ত্রী গর্ভ ধারণ করে না অথবা গর্ভ গ্রহণ করলেও বিকৃত সন্তান উৎপাদন করে।
 

 
তা, সম্মানিত অভিযোগকারীদের জন্মদাতা-দাত্রীগণ সম্ভবত বৈদিক বিধানে আগ্রহ নেই, রুচিও নেই। তাই এমন বিকৃত সন্তান উৎপন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করি।
আর, হ্যাঁ, আপনাদের বক্তব্য ও আপত্তি অনুযায়ী তবে গর্ভাধানের সময় 'নাক পায়ুর উপর,পায়ু মুখের উপর, অপ্রসন্ন হয়ে, নাচতে নাচতে গান বাজিয়ে' বীর্যাধান করা উচিত? অবশ্য অশ্ববীর্যগ্রহণ যাদের পরম্পরাগত স্মার্ত-কল্প-সিদ্ধান্ত তাদের কাছে বিচিত্র নয় বটে এমন আশা করা। 
 
সুতরাং যাকে আপনারা বেদ হিসেবে স্বীকার করেন সেই বৃহদারণ্যক উপনিষদ তথা শতপথ ব্রাহ্মণ এবং উপবেদ হিসেবে খ্যাত আয়ুর্বেদেও যার বর্ণনা বিস্তৃতভাবে রয়েছে তার মূল তত্ত্ব বেদে থাকা কীভাবে অশ্লীল ও অযৌক্তিক? প্রকৃতপক্ষে শাস্ত্রের গভীর অধ্যয়ন না থাকলে কিংবা কেবল মস্তিষ্কে বিদ্বেষ-হিংসা পরিপূর্ণ থাকলেই এমন অভিযোগ করা সম্ভব।
 
অভিযোগ: দয়ানন্দ স্বামী বীর্যাকর্ষণের কথাটি লিখেছেন তা কোথায় আছে?
উত্তর: তা আপনার অতীব মান্য পঞ্চমবেদ মহাভারতেই আছে। চোখ মেলেই দেখুন—
বায়ুঃ সমুৎকর্ষতি গর্ভয়োনিমৃতৌ রেতঃ পুষ্পরসানুপৃক্তম্ ।
স তত্র তন্মাত্রকৃতাধিকারঃ ক্রমেণ সংবর্ধয়তীহ গর্ভম্ ॥
মহাভারত আদিপর্ব ৯০।১৪
অনুবাদ: ঋতুকালে পুষ্পরস সংযুক্ত বীর্যকে বায়ু গর্ভাশয়ে আকর্ষণ করে। সেখানে অর্থাৎ গর্ভাশয়ে সূক্ষ্মভূত তাতে অধিকার করে এবং ক্রমশ গর্ভের বৃদ্ধি করতে থাকে।
 

অবশ্য, বীর্যাকর্ষণ নিয়ে আপনাদের আপত্তি কেন এটা অবোধগম্য। যেখানে, আপনাদের পরমমান্য পঞ্চমবেদস্বরূপ পুরাণেই এই বীর্যাকর্ষণের ব্যতিক্রমের কারণেই তুলসী দেবীর নিকটে বিষ্ণু নিজের শঙ্খচূড় ছদ্মবেশের ধরা পড়েছিল। দেখুন—
ইত্যুক্ত্বা জগতাং নাথঃ শয়নং চ চকার হ ॥ ১৬ ॥
রেমে রমাপতিস্তত্র রাময়া সহ নারদ ।
সা সাধ্বী সুখসম্ভোগাদাকর্ষণব্যতিক্রমাৎ ॥ ১৭ ॥
সর্বং বিতর্কয়ামাস কস্ত্বমেবেত্যুবাচ সা ।
তুলস্যুবাচ
কো বা ত্বং বদ মায়েশ ভুক্তাহং মায়যা ত্বয়া ॥ ১৮ ॥
দেবীভাগবত ৯।২৪।১৬-১৮
অনুবাদ: হে নারদ! পরে রমাপতি সেই রমার সাথে রমণ করলে সাধ্বী তুলসী সুখসম্ভোগের ও আকর্ষণ ব্যতিক্রমহেতু সন্দেহান্বিত হয়ে বললেন- হে মায়েশ! তুমি কে? বল, তুমি মায়াবলে আমাকে উপভোগ করেআমার সতীত্বনাশ করেছ।
 
অভিযোগ: অঙ্গস্থাপন তো বুঝলাম, কিন্তু এভাবে শরীর স্থাপন না করলেই যে কুরূপ সন্তান উৎপন্ন হবে এর প্রমাণ কী?
উত্তর: মহর্ষি কখনোই শুধুমাত্র শারীরিক অবস্থানের কথাই লিখেননি। তিনি লিখেছেন, "স্ত্রীপুরুষৌ গর্ভাধানসময়ে পরস্পরাঙ্গব্যাপিনৌ ভূত্বা মুখেন মুখং চক্ষুষা চক্ষুঃ মনসা মনঃ শরীরেণ শরীরং চানুসন্ধায় গর্ভং দধ্যাতাম্, যতঃ কুরূপং বক্রাঙ্গং বাঽপত্যন্ন স্যাৎ" অর্থাৎ এখানে মনের সাথে মনের উল্লেখও তিনি করেছেন। নিশ্চয়ই এটা কোনো বাহ্য অঙ্গ নয়? 
 
পাশাপাশি, 'মহাভারত'–যাকে আপনারা পরমপ্রমাণ হিসেবে মানেন স্বীয় পরম্পরায়, সেখানে ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধত্ব ও পাণ্ডুর পাণ্ডুবর্ণ প্রাপ্তি হিসেবে কী লেখা হয়েছে?
তস্য কৃষ্ণস্য কপিলাং জটাং দীপ্তে চ লোচনে।
বব্রূণি চৈব শ্মশ্রূমি দৃষ্ট্বা দেবী ন্যমীলয়ৎ॥
সম্ভূব তয়া সার্ধং মাতুঃ প্রিয়চিকীর্ষয়া।
ভয়াৎকাশিসুতা তং তু নাশক্নোদভিবীক্ষিতুম্॥
কিন্তু মাতুঃ স বৈগুণ্যাদন্ধ এব ভবিষ্যতি॥
মহাভারত আদিপর্ব ১০৫।৫,৬,১০
অনুবাদ: ব্যাসের শরীর কৃষ্ণবর্ণ, জটা কপিলবর্ণ ও চোখ দীপ্তিমান ছিল, দাঁড়ি-গোঁফ বাদামীবর্ণের ছিল। মায়ের প্রিয়কর্ম করার হেতু ব্যাস তার সাথে সমাগম করলেন, কিন্তু কাশীরাজকন্যা অম্বিকা ভয়ের কারণে চোখ বন্ধ করে রাখলেন, যাতে দেখতে পেলেন না। বেদব্যাস বলেন, মায়ের এই দোষে তার পুত্র অন্ধ হবে।
 
 
বিবর্ণা পাণ্ডুসঙ্কাশা সমপদ্যত ভারত।
তাং ভীতাং পাণ্ডুসঙ্কাশাং বিষণ্ণাং প্রেক্ষ্য ভারত॥
ব্যাসঃ সত্যবতীপুত্র ইদং বচনমব্রবীৎ।
যস্মাৎপাণ্ডুত্বমাপন্না বিরূপং প্রেক্ষ্য মামিহ॥
তস্মাদেষ সুতস্তে বৈ পাণ্ডুরেব ভবিষ্যতি।
মহাভারত আদিপর্ব ১০৫।১৫-১৭
অনুবাদ: মহর্ষি বেদব্যাসকে দেখে অম্বালিকা বিবর্ণ তথা পাণ্ডুবর্ণসম হয়ে গেল। তখন সেই ভীত, বিষাদগ্রস্ত, পাণ্ডবর্ণসম অম্বালিকাকে দেখে বেদব্যাস বললেন তার পুত্রও পাণ্ডুবর্ণেরই হবে।
 

যদিও আপনাদের তো আবার গর্ভাকর্ষণ করাতে মানুষে পোষায় না, ঘোড়াতে আপনারা অভ্যস্ত। তথাহি পৌরাণিকভাষ্যে—
..আহমজানি গর্ভধমা ত্বমজাসি গর্ভধম্ ॥
তাঽউভৌ চতুরঃ পদঃ সম্প্রসারয়াব স্বর্গে লোকে প্রোর্ণুবাথাং বৃষা বাজী রেতোধা রেতো দধাতু ॥
উৎসক্থ্যাঽঅব গুদং ধেহি সমঞ্জিং চারয়া বৃষন্ ।
য স্ত্রীণাং জীবভোজনঃ ॥
যজুর্বেদ ২৩.১৯-২১
মহীধর-উবট ভাষ্যানুযায়ী অনুবাদ:
১৯.[মহিষী অশ্বের পার্শ্বে শায়তা হয়ে]হে অশ্ব! গর্ভধারক তোমার তেজ আমি আকর্ষণ করে আপন যোনিতে ধারণ করছি। তুমি সেই গর্ভধারক আপন তেজকে আকর্ষণ পূর্বক আমার যোনিতে নিষেক করো৷
২০. হে অশ্ব! আগত হও। আমি ও তুমি উভয়ে আপন চারটি পদ বিস্তৃত করব। হে অশ্ব ও মহিষী! তোমরা দুজনে এই স্বর্গীয় যজ্ঞভূমিতে নিজেদের আচ্ছাদিত করে নাও। (মহিষী কর্তৃক অশ্বের লিঙ্গটি ধরে আপন যোনিতে প্রবিষ্ট করণীয়) বীর্যবান্ অশ্ব, বীর্যকে ধারণশীল, আমাতে আপন বীর্য স্থাপন করুক৷
২১. (যজমান কর্তৃক অশ্বকে কহনীয়)–হে সেচক অশ্ব! উত্থিত হয়ে জঙ্ঘাশালিনী এই মহিষীর যোনিতে আপন লিঙ্গ রক্ষা করো–তাকে (লিঙ্গকে) অগ্র পশ্চাৎ চালিত করো। এই লিঙ্গই স্ত্রীগণের জীবন ও ভোজন স্বরূপ৷
 


 
অতএব, অন্তত আপনাদের এই নিয়ে কথা বলা শোভা দেয় না যে কীভাবে গর্ভাধান করলে কেমন সন্তান উৎপন্ন হবে। আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন, অপরের পিঠ দেখা সহজ।

© বাংলাদেশ অগ্নিবীর