https://www.idblanter.com/search/label/Template
https://www.idblanter.com
BLANTERORBITv101

রজস্বলা নারী ~ পুরাণ ও স্মৃতি অনুযায়ী অস্পৃশ্য জীব

Thursday, June 25, 2026

  • রজস্বলা নারী ~ পুরাণ ও স্মৃতি অনুযায়ী অস্পৃশ্য জীব
মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী স্বীয় 'সংস্কারবিধিঃ'-গ্রন্থে রজস্বলা নারীর বিশ্রামের উদ্দেশ্যে তাকে কর্ম থেকে অব্যহতি ও বিশ্রামে থাকার উপদেশ দিয়েছেন। স্বামীজি মহারাজের মহৎ-উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হয়ে কতিপয় ব্যক্তিবর্গ দাবি করেন তিনি নারীদের এখানে অপবিত্র ও অস্পৃশ্যবৎ বলেছেন। যদিও সম্পূর্ণ প্রকরণে কখনোই তা দৃষ্টিগোচর হয় না। বরং আর্যসমাজ সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছে—
ঋতুকালে স্ত্রীর স্পর্শ করা খাদ্যের যে নিষেধ আদি বলা হয়েছে, তা কেবল এইজন্য যে পুরুষ যেন স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকে, কারণ এই অবস্থার সহবাস মহারোগকারক হয়। কিন্তু এই দোষ অগ্নিহোত্র আদি শুভ কর্ম করার ক্ষেত্রে নেই। আপনারা কি এটি বলবেন যে স্ত্রী কি এই অবস্থায় শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া ছেড়ে দেয়? অথবা অন্য শৌচ আদি কার্য থেকে দুর্গন্ধ আদি ছড়ায় না? তাহলে শুদ্ধির হবন আদির নিষেধ কেন? হ্যাঁ, এটি অবশ্যই করা উচিত যে সে একাকী থেকেই অগ্নিহোত্র আদি কর্ম করুক। কোনো পুরুষের স্পর্শ ও দর্শন আদি যদি না হয়, তবে ঋতুকালে অগ্নিহোত্র আদি করায় কোনো দোষ হয় না। আর এই ভাবনা পৌরাণিক কালের তথা শাস্ত্রবিরুদ্ধ যে, ‘এই অবস্থায় স্ত্রী অগ্নিহোত্রও করবে না।’❞
[সূত্র: দয়ানন্দ সন্দেশ, জুলাই, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ] 
 
 
 
পাশাপাশি, আমাদের আচার্যগণ সুস্পষ্টরূপে এই সময়টিতে বিশ্রামের উপদেশ প্রদান করেন। কেননা যদি ক্রমাগত রক্তক্ষরণ ঘটতে থাকে তবে মনঃসংযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে যা দেবযজ্ঞের জন্য হানিকারক, এজন্য তারা সুবিধাজনকভাবে মানসজপ ও উপাসনার পরামর্শ প্রদান করেন। তবে যদি কেউ শারীরিকভাবে দৃঢ় ও লৌহমনোবল যুক্ত হয়ে অন্যাদি ক্রিয়াও করেন তবে তার কোনো নিষেধ করা হয় না।
 

 
🔰 প্রশ্ন হলো, মহর্ষি দয়ানন্দ ও তদানুসারী পরম্পরার সম্পূর্ণ অনুকূল সিদ্ধান্ত বাচিক ও লিখিত উভয়ভাবেই রজস্বলা অবস্থায় নারীর ধর্মীয় অধিকারের পক্ষেই রয়েছে। কিন্তু, স্মার্তাদ্বৈত থেকে শুরু করে যাবতীয় পৌরাণিক সম্প্রদায় কি এই অধিকার প্রদান করেন বা করার কোনো প্রামাণিক স্বীকৃতি আছে ? যদি বলেন, তারা শাস্ত্রোক্ত নিষেধ অনুযায়ী নারীর রজস্বলা অবস্থায় কর্মকাণ্ডীয় অধিকার স্বীকার করেন না (যদিও তারা নারীর উপনয়ন অধিকার৷ মন্ত্রাধিকারও পৌরোহিত্যাধিকারও মানেন না) সেখানে অযথা মহর্ষি দয়ানন্দ বা আর্যসমাজের পরম্পরা নিয়ে বৃথা আস্ফালন বা বিতণ্ডার কী কারণ? নিজেরা যা করেন না, অন্যের বেলায় জোর করে সেই আরোপ প্রদান ছল নয় তো আর কী!
 
▪️যাই হোক, আমরা আজ রজস্বলা অবস্থায় নারীর কী করুণ অবস্থা স্মার্ত-পৌরাণিক সিদ্ধান্তে করা হয়েছে তা আমরা দেখব। প্রসঙ্গত, যদি তারা এখানে “নারীকে বিশ্রাম করতে বলা হয়েছে, তাই পূজাপাঠ করবে না” এই যুক্তি প্রদান করেন সেটিও মিথ্যা প্রমাণ হবে। কারণ বিশ্রাম ও অপবিত্র-পাপী ভেবে দূরে রাখা দুটো এক নয় কোনোভাবেই। আসুন দেখি— 
 
প্রথমেঽহনি চণ্ডালী দ্বিতীয়ে ব্রহ্মঘাতিনী ॥
তৃতীয়ে রজকী প্রোক্তা চতুর্থেঽহনি শুধ্যতি ।
পরাশর-স্মৃতি ৭.১৯
অনুবাদ: রজস্বলা নারী প্রথমদিন চণ্ডালিনীর মতো, দ্বিতীয় দিন ব্রহ্মহত্যাকারীর মতো, তৃতীয়দিন ধোপার স্ত্রীর মতো থাকে আর চতুর্থ দিনে শুদ্ধ হয়। 
 
 
অস্পৃশ্যঃ কামকারেণ স্পৃশন্স্পৃশ্যং ত্রৈবর্ণিকং বধ্যঃ। রজস্বলাং শিক্যা[ফ্যা]ভিস্তাড়য়েৎ।
বিষ্ণু-স্মৃতি ৫.১০৩-১০৪
অনুবাদ: রজস্বলা নারী যদি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় বা বৈশ্যকে স্পর্শ করে তবে তাকে দড়ি [পঞ্চানন তর্করত্নের অনুবাদে ‘শিফা = গাছের ডাল’] দিয়ে পেটাবে। 
 

নোদক্যামভিভাষেত।
বিষ্ণু-স্মৃতি ৭১.৫৮
অনুবাদ: রজস্বলা নারীর সাথে কথা বলবে না। 
 
 
সংস্পৃষ্টং যস্তু পক্বান্নমন্ত্যজৈর্বাপ্যুদক্যয়া।
অজ্ঞানাদ্‌ব্রাহ্মণোঽশ্নীয়াৎ প্রাজাপত্যার্ধমাচরেৎ॥
অত্রি-স্মৃতি ১৭১
অনুবাদ: ব্রাহ্মণ অজ্ঞানবশত রজস্বলা নারীর ছোঁয়া রান্না করা খাবার খেলে 'প্রাজাপত্যার্ধ' প্রায়শ্চিত্ত করবে।
 

দৃষ্ট্বা মহাপাতকিনং চাণ্ডালং বা রজস্বলাম্।
প্রমাদাদ্ভোজনং কৃত্বা ত্রিরাত্রেণ বিশুধ্যতি॥
উশন-স্মৃতি ৯.৫৩,৭৫
অনুবাদ: অজ্ঞানবশত রজস্বলা নারীকে স্পর্শ করে এরপর খাবার খেলে ৩ রাত উপবাস করে শুদ্ধ হবে। রজস্বলা কাউকে স্পর্শ করলে সে স্নান করে শুদ্ধ হবে। 
 

চাণ্ডালং পতিতং স্পৃষ্ট্বা শবমন্ত্যজমেব চ।
উদক্যাং সূতিকাং নারীং সবাসাঃ স্নানমাচরেৎ॥
সংবর্ত-স্মৃতি ১৭৮
অনুবাদ: রজস্বলা নারীকে স্পর্শ করলে বস্ত্রসহ স্নান করে শুদ্ধ হবে। 
 

চাণ্ডালসূতিকোদক্যাপতিতানামধঃ ক্রমাৎ ॥
ততঃ সংনিধিমাত্রেণ সচৈলং স্নানং আচরেৎ ।
পরাশর-স্মৃতি ১২.৪৭-৪৮
অনুবাদ: রজস্বলা নারীকে স্পর্শ করলে ৬দিন অশৌচ হয়। তার কাছে গেলেই স্নান করতে হবে। 
 
 
রজস্বলাং ন চৈনাং শ্লিষ্যেন্ন...বর্জ্জয়েন্ন সন্দিগ্ধাং নাবমধিরোহেৎ।
গৌতমসংহিতা ৯
অনুবাদ: রজস্বলা নারীকে আলিঙ্গনও করবে না। 
 

 
উদক্যা স্পৃষ্টসঙ্ঘুষ্টং পর্যায়ান্নং চ বর্জয়েৎ।
গোঘ্রাতং শকুনোচ্ছিষ্টং পদা স্পৃষ্টং চ কামতঃ॥
যাজ্ঞবল্ক্য-স্মৃতি ১.১৬৭ [ভক্ষ্যাভক্ষ্যপ্রকরণম্]
অনুবাদ: রজস্বলার স্পর্শ করা অন্ন ভোজন করবে না। 
 

উদক্যাশৌচিভিঃ স্নায়াৎ সংস্পৃষ্টস্তৈরুপস্পৃশেৎ ।
অব লিঙ্গানি জপেচ্চৈব গায়ত্রীং মনসা সকৃৎ ॥
যাজ্ঞবল্ক্য-স্মৃতি ৩.৩০
অনুবাদ: রজস্বলা নারী যাকে স্পর্শ করেছে সেই ব্যক্তি স্নান করবে। যদি ঐ ব্যক্তি স্নান না করে তবে সে যাকে যাকে স্পর্শ করবে তারা আচমন করে আপোহিষ্ঠাদি মন্ত্রত্রয় পাঠ ও একবার মানস-গায়ত্রী জপ করবে। 

উদক্যা বীক্ষিতং ভুক্ত্বা জায়তে কৃমিলোদরঃ ।
গোমূত্রযাবকাহারস্ত্রিরাত্রেণৈব শুধ্যতি ॥
শাতাতপ-স্মৃতি ৩.৫
অনুবাদ: রজস্বলা স্ত্রীর দেখা খাবার খেলে পেটে কৃমি হয়। ৩ রাত গোমূত্র ও যাবক ভোজন করে শুদ্ধ হতে হবে। 

চাণ্ডালশ্চ বরাহশ্চ কুক্কুটঃ শ্বা তথৈব চ ।
রজস্বলা চ ষণ্ঢশ্চ নেক্ষেরন্নশ্নতো দ্বিজান্ ॥
মনুস্মৃতি ৩.২৩৯ [বিশুদ্ধ মনুস্মৃতি অনুযায়ী শ্লোকটি প্রক্ষিপ্ত]
অনুবাদ: ব্রাহ্মণদের আহারের সময়ে চণ্ডাল, শূকর, মোরগ, কুকুর, রজস্বলা নারী ও ক্লীব যেন ব্রাহ্মণদের দেখতে না পায় এমন ব্যবস্থা করবে। 
 

শ্বাঘ্রাতং চ পুনঃ সিদ্ধং চণ্ডালাবেক্ষিতং তথা ।
উদক্যযা চ পতিতৈর্গবা চাঘ্রাতমেব চ ।
মনুষ্যৈরথবাঘ্রাতং কুষ্ঠিনা স্পৃষ্টমেব চ ।
ন রজস্বলয়া দত্তং ন পুংশ্চাল্যা সরোষকম্ ॥
কূর্মপুরাণ উপরিভাগ ১৭.২৮,৩০
অনুবাদ: চণ্ডাল, রজস্বলা ও পতিত ব্যক্তির দেখা রজস্বলার দেওয়া খাবার খাবে না। 
 

শশ্বৎকামবরেণাংহস্তুরীয়ং জগৃহুঃ স্ত্রিয়ঃ ।
রজোরূপেণ তাস্বংহো মাসি মাসি প্রদৃশ্যতে ॥
শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ৬.৯.৯
অনুবাদ: নারীগণ ইন্দ্রের কাছে বর লাভ করেছিল যে, তারা সর্বকালে মৈথুন সম্ভোগ করতে পারবে, এমন কি গর্ভ অবস্থায়ও সম্ভোগ যদি গর্ভের পক্ষে ক্ষতিকারক না হয়, তা হলে সম্ভোগ করতে পারবে। সেই বর লাভ করার ফলে, তারা ইন্দ্রের পাপের এক-চতুর্থাংশ গ্রহণ করেছিল। তাই প্রতি মাসে ঋতুকালে রজোরূপে সেই পাপ দৃষ্ট হয়।
 
 
রজস্বলামুখাস্বাদঃ সুরাপানসমানি তু ॥
গরুড় পুরাণ পূর্বখণ্ড ১০৫.৭, যাজ্ঞবল্ক্য-স্মৃতি ৩.২২৯
অনুবাদ: রজস্বলা নারীর মুখে চুমু দিলে তা মদ্যপানের সমান পাপ হবে। 
 
 
চাণ্ডালশববিষ্ঠাদ্যান্ স্পৃষ্ট্বা স্নানং রজস্বলাম্।
গরুড় পুরাণ পূর্বখণ্ড ২১৭.১১১
অনুবাদ: রজস্বলা নারীকে স্পর্শ করলে স্নান করতে হয়। 
 

রজস্বলাদিপতিতৈর্ন ভাষেত কেশবং স্মরেৎ ।
নাসংবৃতমুখঃ কুর্যাদ্ধাসঞ্জৃম্ভাং তথা ক্ষুতং ॥
অগ্নিপুরাণ ১৫৫.২৫
অনুবাদ: জস্বলা নারীর সাথে কথা বলা উচিত নয়। 
 
 
ভক্ষ্যং ভোজ্যমুদক্যাং চ ষণ্ন পশ্যেৎকদাচন ॥
নারদপরিব্রাজকোপনিষদ্ ৩.৬৯
অনুবাদ: রজস্বলা নারীকে সন্ন্যাসী কখনো দেখবে না। 
 

ন গচ্ছেৎ স্ত্রী রজোযুক্তাং ন চাশ্নীয়াত্তয়া সহ।
বৃহৎ পরাশর স্মৃতি ৬.২৭০
অনুবাদ: রজস্বলা নারীর সাথে ভোজন করবে না
 

শ্বস্পৃষ্টং সূতিকাস্পৃষ্টমুদকা দৃষ্টমেব চ।
পাষণ্ড-ভণ্ড-চণ্ডাল-বৃষলীপতিবীক্ষিতম্॥
ম্লেচ্ছ-চণ্ডাল-পতিত-পাষণ্ডান্নমকামতঃ।
উদক্যা সহ ভুক্ত্বা চ চরেদর্দ্ধব্রতং দ্বিজঃ॥
বৃদ্ধ হারীত স্মৃতি ৬।২৬১,২৬৫
অনুবাদ: রজস্বলা নারীর দেখা অন্ন খাবে না। অনিচ্ছায় রজস্বলা নারীর সঙ্গে একত্রে খেলে দ্বিজ অর্ধ ব্রত পালন করবে। 
 
শবস্পৃশং চ স্পৃষ্ট্বা রজস্বলাচণ্ডালয়ূপাংশ্চ।
রজস্বলা চতুর্থেঽহ্নি স্নানাচ্ছুধ্যতি।
রজস্বলা হীনবর্ণাং রজস্বলাং স্পৃষ্ট্বা ন তাবদশ্নীয়াদ্ যাবন্ন শুদ্ধা।
সবর্ণামধিকবর্ণাং বা স্পৃষ্ট্বা স্নাত্বাশ্নীয়াৎ।
বিষ্ণুস্মৃতি ২২.৬৮,৭২-৭৩; যমস্মৃতি ৫৬-৬৪
অনুবাদ: রজস্বলা স্পর্শ করলে স্নান করবে। রজস্বলা নারী যদি তার থেকে হীনবর্ণীয় রজস্বলা স্পর্শ করলে রজস্বলা নারীর শুদ্ধ হতে যে কয়দিন বাকি ততদিন উপবাস করে শুদ্ধ হবে। আর নিজবর্ণের বা নিজের থেকে উচ্চ বর্ণের রজস্বলা নারী স্পর্শ করলে চারদিনে অর্থাৎ তার শুদ্ধকালে সে স্নান করে ভোজন করবে।
 


 
ন রজস্বলাং পশ্যেৎ। ন শ্বানং। ন বিড্বরাহং। ন গ্রামকুক্কুটং। প্রযত্নাৎশ্রাদ্ধং অজস্য দর্শয়েৎ।
বিষ্ণুস্মৃতি ৮১.৬-১০
অনুবাদ: শ্রাদ্ধের সময় রজস্বলা নারী, কুকুর, গ্রাম্যশূকর, গ্রাম্যমোরগ দেখবে না। তবে যত্নসহকারে ছাগলকে শ্রাদ্ধ দেখাবে। 
 
 
কুক্কুটঃ শূকরশ্বানো বর্জ্যাঃ শ্রাদ্ধেষু দূরতঃ।
বীভৎসমশুচিং ম্লেচ্ছং ন স্পৃশেচ্চ রজস্বলাম্॥
উশনস্মৃতি ৫.৩২
অনুবাদ: শ্রাদ্ধকর্তা ও শ্রাদ্ধভোজনকারী কেউ রজস্বলাকে স্পর্শ করবে না। 
 
 
  • রজস্বলা নারী কী কী করবে না এই বিষয়ে বসিষ্ঠস্মৃতিতে বলা হয়েছে—
ত্রিরাত্রং রজস্বলাশুচির্ভবতি, সা নাঞ্জ্যাৎ, নাপ্‌সু স্নায়াৎ অধঃ শয়ীত, দিবা ন স্বপ্যাৎ, নাগ্নিং স্পৃশেৎ, ন রজ্জুং প্রমৃজেৎ, ন দন্তান্ ধাবয়েৎ, ন মাংসমশ্নীয়াৎ, ন গ্রহান্ নিরীক্ষেত, ন হসেৎ, ন কিঞ্চিদাচরেৎ, নাঞ্জলিনা জলং পিবেৎ, ন খর্ব্বেণ ন লোহিতায়সেন বা। তস্মাদ্রজস্বলান্নং নাশ্নীয়াৎ।
বসিষ্ঠস্মৃতি অধ্যায় ৫.৫,১৪
অনুবাদ: রজস্বলা নারী চোখে কাজল দেবে না, জলে স্নান করবে না, মাটিতে শোবে, দিনে ঘুমাবে না, অগ্নিস্পর্শ করবে না, দাঁত মাজবে না, গ্রহ-নক্ষত্র দেখবে না, হাসবে না, কাজ করবে না, অঞ্জলি করে জল খাবে না, কাঁসা বা তামা বা লোহার পাত্রে জলপান করবে না। রজস্বলার অন্ন খাবে না। 
 
 
তস্মাৎসর্বপ্রয়ত্নেন ন সম্ভাষ্যা রজস্বলা।
পঞ্চরাত্রং তথাস্পৃশ্যা রজসা বর্ততে যদি।
স্নানে শৌচং তথা গানং রোদনং হসনং তথা॥
যানমভ্যঞ্জনং নারী দ্যূতং চৈবানুলেপনম্॥
দিবাস্বপ্নং বিশেষেণ তথা বৈ দন্তধাবনম্॥
মৈথুনং মানসং বাপি বাচিকং দেবতার্চনম্॥
বর্জয়েৎসর্বয়ত্নেন নমস্কারং রজস্বলা॥
লিঙ্গপুরাণ পূর্বভাগ ৮৯.১০০-১০৬
অনুবাদ: রজস্বলা নারীর সঙ্গে কথা বলবে না। সে ৫ রাত অস্পৃশ্যা থাকে। রজস্বলা নারী স্নান, শৌচ, গান, কান্না, হাসি, যানবাহন, সাজগোজ, জুয়া, অনুলেপন, মৈথুন, মানসিক-বাচিক দেবতাপূজা ও নমস্কার করবে না। রজস্বলা নারী অন্য রজস্বলা নারীর সাথেও স্পর্শ করবে না ও কথা বলবে না। 
 
 

পিতৃবেশ্মনি কন্যা যা রজঃ পশ্যত্যসংস্কৃতা ।
তস্যাং মৃতায়াং নাশৌচং কদাচিদপি শাম্যতি ॥
শঙ্খস্মৃতি ১৫.৮
অনুবাদ: যে কন্যা বিয়ের আগেই পিতার ঘরে রজস্বলা হয় (কারণ স্মৃতি অনুযায়ী ঋতুমতী হওয়ার আগেই বিয়ে দিতে হবে) তার মৃত্যু হলে অশৌচ কোনোকালেই শান্তি হবে না। 
 

 
 
রজস্বলা নারীকে স্পর্শ করলে যেমন অন্যের প্রায়শ্চিত্ত, আবার রজস্বলা নারীকেও যদি কুকুর বা অন্ত্যজজাতির কেউ স্পর্শ করে তবে তারও প্রায়শ্চিত্ত আছে—আপস্তম্ব স্মৃতি ৭.৭-১৫। আরো উদাহরণ—
শুনা পুষ্পবতী স্পৃষ্ট্বা পুষ্পবত্যান্যয়া তথা।
শেষাণ্যহান্যুপবসেৎ স্নাতা শুধ্যেনমৃতাশনাৎ॥
সংবর্ত স্মৃতি ১৮১
অনুবাদ: ঋতুমতী স্ত্রীকে যদি অন্য ঋতুমতী স্ত্রী বা কুকুর স্পর্শ করে তবে অবশিষ্ট ঋতুদিনগুলোতে উপবাস করবে ঘি খেয়ে শুদ্ধ হবে। 
 

স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী ব্রাহ্মণী তথা ॥
তাবত্তিষ্ঠেন্নিরাহারা ত্রিরাত্রেণৈব শুধ্যতি ।
স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী ক্ষত্রিয়া তথা ॥
অর্ধকৃচ্ছ্রং চরেৎপূর্বা পাদং একং অনন্তরা ।
স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী বৈশ্যজা তথা ॥
পাদহীনং চরেৎপূর্বা পাদং একং অনন্তরা ।
স্পৃষ্ট্বা রজস্বলান্যোন্যং ব্রাহ্মণী শূদ্রজা তথা ॥
কৃচ্ছ্রেণ শুধ্যতে পূর্বা শূদ্রা দানেন শুধ্যতি ।
পরাশরস্মৃতি ৭.১৩-১৬
অনুবাদ: দুই ব্রাহ্মণ কন্যা রজস্বলা হয়ে পরস্পরকে স্পর্শ করলে ৩ রাত অনাহারে শুদ্ধ হবে। একই কাজ ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় কন্যা করলে যথাক্রমে অর্ধ ও এক চতুর্থাংশ কৃচ্ছ্রব্রত; এভাবেই ব্রাহ্মণ-বৈশ্য কন্যাও করবে। ব্রাহ্মণ ও শূদ্রকন্যা হলে ব্রাহ্মণকন্যা সম্পূর্ণ কৃচ্ছ্রব্রত করবে ও শূদ্রকন্যা দান দ্বারা শুদ্ধ হবে। 
 
 
রজস্বলা যদা স্পৃষ্টা শুনা শূকর-বায়সৈঃ।
উপোষ্য রজনীমেকাং পঞ্চগব্যেন শুধ্যতি॥
লিখিত-স্মৃতি ৮৩
অনুবাদ: যদি রজস্বলা নারীকে কুকুর, শূকর বা কাক স্পর্শ করে তবে একরাত উপবাস করে পঞ্চগব্য খেয়ে শুদ্ধ হবে। 
 
 
রজস্বলায়াং প্রেতায়াং সংস্কারাদীনি নাচরেৎ।
উর্দ্ধং ত্রিরাত্রতঃ স্নাতাং শবধর্মেণ দাহয়েৎ॥
দালভ্যস্মৃতি ১৪৯
অনুবাদ: রজস্বলা নারী মারা গেলে তখনই দাহ না করে ৩ রাত অতিক্রম হওয়ার পর মৃতদেহকে স্নান করিয়ে এরপদ দাহ করাবে। 
 


📍বি.দ্র.: অত্রিস্মৃতি ১৩৯, ২৩৮; বশিষ্ঠ ধর্মসূত্র ২৮.৬-৯; পরাশরস্মৃতি ৭.২৪ এখানে নারীকে সর্বদা শুদ্ধ বলা হয়েছে অর্থবাদ বা প্রশংসাত্মকভাবে। কারণ এই যুক্তিতে নারীদের জীবনে কোনো পাপই হবে না, পুরুষই কেবল পাপী হবে। প্রকৃতপক্ষে তা নয়। যদি এই শ্লোকসমূহের অর্থ নারীর সর্বকালীন শুদ্ধতা হতো তবে একই অত্রিস্মৃতির ১৯৪ শ্লোকে বলা হতো না 'ঋতুকাল উপাসীত পুষ্পকালেন শুধ্যতি' = ঋতুকাল উপস্থিত হলে নারীয়া শুদ্ধ হয়। 
 
 
 
একইভাবে পরাশরস্মৃতি ৭.৪ বলছে, 'রজসা শুদ্ধতে নারী বিকলং যা ন গচ্ছতি' = পরপুরুষের সাথে ব্যভিচার না করলে, রজস্বলা হলেও নারী শুদ্ধ হয়। 
 
 
যদিও আমরা এই শ্লোকসমূহের প্রামাণিকতায় বিশ্বাসী না। নারী-পুরষ সকলেই সৎ-আচরণে শুদ্ধ ও পাপকর্মে অশুদ্ধ তথা পাপী। এটিই স্থির বৈদিক সিদ্ধান্ত।

© বাংলাদেশ অগ্নিবীর